
বাগেরহাটের রামপালে মোংলা–ঘোষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌ চ্যানেলের একটি অংশে বাঁধ দিয়ে দখলের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের নির্দেশে অভিযান চালিয়ে ওই বাঁধ নির্মাণের চেষ্টা ভণ্ডুল করে দেয় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিৎ চক্রবর্তী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোংলা–ঘোষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌ চ্যানেলের প্রায় ৫ কিলোমিটার অংশ দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় পলি জমে ভরাট হয়ে যায়। পরবর্তীতে মুজিবনগর এলাকার ভরাট হওয়া নদীর চরকে কেন্দ্র করে কথিত জমির মালিকরা নদীভাঙা জমির কাগজপত্র তৈরি করে হাজার একর জমি দখল করে নেয়।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি মালিকানাধীন অনেক জমিও দখল করে সেখানে বসতবাড়ি নির্মাণ এবং মৎস্য চাষ শুরু করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, আগের সরকারের সময়ে পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবে কোটি কোটি টাকার সরকারি জমি এভাবে বেহাত হয়ে যায়।
এছাড়া বিগত সেটেলমেন্ট জরিপের সময় অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে নদীভাঙা জমি রেকর্ড করানোর অভিযোগও রয়েছে। কেউ কেউ শিকস্তি বা পয়োস্তি দাবি করে, আবার কেউ আদালত থেকে একতরফা রায় নিয়ে নদীর ভরাট জমিকে নিজের মালিকানা দাবি করেছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
এভাবে মোংলা–ঘোষিয়াখালী চ্যানেলের মুজিবনগর এলাকার প্রায় ৫ কিলোমিটার নদীর চরভূমির হাজার একর জমি দখল হয়ে গেছে। সরকারি বিধি অনুযায়ী নদীর তীরভূমি বা প্লাবনভূমি সরকারের মালিকানায় থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে এসব জমির অনেকটাই দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে চ্যানেল দখলের বিষয়টি রামপাল–মোংলা আসনের সংসদ সদস্য ও বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলামকে জানান স্থানীয়রা। পরে তিনি রামপাল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিৎ চক্রবর্তীকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
নির্দেশনা পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাৎক্ষণিকভাবে মুজিবনগর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। সরেজমিনে গিয়ে তিনি দেখতে পান চ্যানেলে বাঁধ দেওয়া হচ্ছে। এ সময় জমির মালিকানা দাবি করা ফকির রুহুল আমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি জানান, জমিটি তার ভাই শাহাদাৎ ও জাফরের। এ কারণে তিনি বাঁধ দিচ্ছেন।
পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাকে কড়া ভাষায় বাঁধ নির্মাণ বন্ধ করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে স্যাদলার পাশ খালের বাঁধ দ্রুত কেটে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এছাড়া বাইনতলা ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামে জনৈক সৈয়দ জাহিদ হোসেনের দখলে থাকা কাটাখালি খালের গোহালঘর অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)।
মন্তব্য করুন