
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়ন পরিষদে ঈদুল ফিতর ২০২৬ উপলক্ষে ভিজিএফ চাউল বিতরণ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী এমপির জন্য ১৫% এবং বিএনপির জন্য ১৫% বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও বাকি ৭০% চাউল হতদরিদ্র গুচ্ছগ্রামের মানুষের মাঝে বিতরণের কথা ছিল। তবে প্রশাসনিক চাপের কারণে বিতরণের প্রক্রিয়ায় অস্বাভাবিকতা দেখা দিয়েছে।1
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার গত শুক্রবার প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে অফিসে ডেকে নেন এবং ৭০% বরাদ্দের মধ্যে আরও ১০% দলের ব্যবস্থাপনায় দেওয়ার জন্য চাপ প্রদান করেন। তবে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা জানান, এমন কোনো অতিরিক্ত ১০% বরাদ্দ দেওয়ার সুযোগ নেই। এ কারণে বাহিরচর ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দকৃত ৭০% চাউল প্রতিটি হতদরিদ্র মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, ইউনিয়ন পরিষদের দলীয় ১৫% বরাদ্দ ভেড়ামারা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিবের নেতৃত্বে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মনিরুজ্জামান জুয়েল দ্বারা বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু বাহিরচর ইউনিয়ন বিএনপির কোনো স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এই বরাদ্দ থেকে চাউল পাননি।
এই পরিস্থিতিতে, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা জানিয়েছেন যে, চাউল আগামীকাল বিতরণ করা হবে না। তারা আরও বলেন, “সুস্থ ও ন্যায়সংগতভাবে বণ্টন না হওয়া পর্যন্ত চাউল দেওয়া হবে না।” স্থানীয় জনগণও এই বিতরণের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, ভিজিএফ চাউল বিতরণে এই ধরনের দলীয়করণ ও প্রশাসনিক চাপ স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে ঈদুল ফিতরের মতো বিশেষ সময়ে হতদরিদ্র পরিবারের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।1
উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নগুলোতেও এ ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষকে এখন পদক্ষেপ নিয়ে বিতরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে, যাতে চাউল প্রকৃত সুবিধাভোগীদের হাতে পৌঁছায় এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার বন্ধ করা যায়।
মন্তব্য করুন