
রাজশাহীতে অভিযান চালিয়ে একটি প্রাইভেট কার থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর (ডিএনসি)। এ ঘটনায় দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্যের মধ্যে ২১৫ বোতল ইসকাফ সিরাপ রয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ছয় লাখ টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল প্রায় ৯টার দিকে রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কের সারইল এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের রাজশাহী কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের একটি বিশেষ দল ওই এলাকায় অবস্থান নেয় এবং সন্দেহভাজন একটি প্রাইভেট কারে তল্লাশি চালায়। গাড়িটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল বলে জানা গেছে। প্রাইভেট কারটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-গ-২৩-৬১৪১।
তল্লাশির এক পর্যায়ে গাড়িটির পেছনের অংশে বিশেষ কৌশলে তৈরি করা একটি গোপন চেম্বারের সন্ধান পাওয়া যায়। পরে সেই গোপন চেম্বার খুলে দেখা যায় সেখানে বিপুল পরিমাণ ইসকাফ সিরাপ লুকিয়ে রাখা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সেখান থেকে মোট ২১৫ বোতল ইসকাফ সিরাপ উদ্ধার করেন।
এ সময় মাদক পরিবহনের অভিযোগে গাড়িতে থাকা দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—ঢাকার খিলগাঁও এলাকার বাসিন্দা তুহিন ফকির (২৬) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর থানার মুকুন্দপুর এলাকার সিয়াম (২৫)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের বিরুদ্ধে মাদক পরিবহন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
অভিযান শেষে উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য ও ব্যবহৃত প্রাইভেট কারটি জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গাড়িটি সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাজশাহীর গোদাগাড়ী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানান, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে মহাসড়ক ও সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক পরিবহন রোধে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
তারা আরও জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদক পাচার ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ জনগণকেও সচেতন হয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন