
ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলায় একটি সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়মের সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে এক সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে কাঠালিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ গোলাম মোস্তফাকে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন বাংলার ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক এইচ এম নাসির উদ্দিন সম্প্রতি কাঠালিয়া উপজেলায় একটি রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়মের বিষয় তুলে ধরে একটি সংবাদ প্রকাশ করেন। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রাস্তা নির্মাণে নিয়ম অনুযায়ী মানসম্মত মাটি ব্যবহার না করে চুলার মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে এবং পাইলিংয়ের জন্য বাঁশ বা কাঠের পরিবর্তে কলাগাছ ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।
সাংবাদিক নাসির উদ্দিনের অভিযোগ অনুযায়ী, সংবাদ প্রকাশের জেরে রবিবার (১৫ মার্চ) দুপুর প্রায় ১টার দিকে তাকে কাঠালিয়া উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ে ডাকা হয়। তিনি জানান, প্রকৌশলী মোঃ গোলাম মোস্তফা তার কার্যালয়ের কম্পিউটার অপারেটর মোঃ শাকিলের মাধ্যমে তাকে কক্ষে ডেকে পাঠান।1
সাংবাদিক এইচ এম নাসির উদ্দিন অভিযোগ করেন, কক্ষে প্রবেশ করার পর উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং সংবাদ প্রকাশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে তিনি তাকে হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন নাসির উদ্দিন। এছাড়া তার হাতে থাকা ক্যামেরা ফেলে দেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতে তাকে “দেখে নেওয়া হবে” বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।11
এ ঘটনার পর স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা মনে করছেন, গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এ ধরনের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য হুমকি স্বরূপ। তারা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ জানান, কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির বিষয় গণমাধ্যমে তুলে ধরা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্বের অংশ। তাই সংবাদ প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিককে হুমকি দেওয়া বা হয়রানি করা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।
তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত কাঠালিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ গোলাম মোস্তফার বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন