
রাজশাহীর সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মালিকানাধীন উত্তরবঙ্গের বৃহৎ প্রাত্যহিক সিটি পশুহাট ইজারা নিয়ে বড় ধরনের অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় প্রায় পাঁচ কোটি টাকা কম মূল্যে হাটটি ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার ফলে রাসিকের বিপুল রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত বছর রাজশাহী সিটি পশুহাটের ইজারা মূল্য ছিল প্রায় ১২ কোটি টাকার বেশি। তবে এবার সম্ভাব্য সরকারি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ৭ কোটি ৩ লাখ ৮৪ হাজার ২৭৫ টাকা। পরবর্তীতে দরপত্র আহ্বান করা হলে সর্বোচ্চ দর হিসেবে জমা পড়ে ৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা। অভিযোগ উঠেছে, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ইজারা কমিটির সঙ্গে যোগসাজশ করে কম মূল্যে হাটটি ইজারা নেওয়ার চেষ্টা করছে।
সূত্রগুলো দাবি করেছে, এ সিন্ডিকেটের সঙ্গে স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ঘনিষ্ঠ সুবিধাভোগী ঘাটিয়াল ও হাটিয়ালদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। একই সঙ্গে রাজশাহীর আলোচিত হুন্ডি ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত মুকুল নামের এক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার কথাও আলোচনায় এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি পুরো প্রক্রিয়ার পেছনে থেকে অর্থের জোগান দিয়ে সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন।
রাসিকের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী জানিয়েছেন, সম্ভাব্য সরকারি মূল্য নির্ধারণে ইজারা কমিটি কারসাজি করেছে। গত বছরের ইজারামূল্যের সঙ্গে নীতিমালা অনুযায়ী অন্তত ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার কথা থাকলেও রহস্যজনকভাবে এবার মূল্য কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে সিটি করপোরেশন প্রায় পাঁচ কোটি টাকার রাজস্ব হারাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী সিটির প্রাত্যহিক পশুহাটসহ মোট ১৪টি হাট-বাজারের জন্য দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ১১ মার্চ ছিল দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। এ সময় সিটি পশুহাটের জন্য ১৫টি সিডিউল বিক্রি হলেও শেষ পর্যন্ত মাত্র পাঁচটি দরপত্র জমা পড়ে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবেই দরপত্র জমার সংখ্যা সীমিত রাখা হয়েছে।
দরপত্রে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে এগিয়ে আছেন শওকত আলী নামের এক ব্যক্তি। তিনি ৭ কোটি ৪০ লাখ টাকার দর দিয়েছেন এবং ইজারা কমিটি তাকে আগামী এক বছরের জন্য সিটি পশুহাট ইজারা দেওয়ার সুপারিশ করেছে। জানা গেছে, শওকত আলী আলোচিত মুকুলের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়।
তবে এ বিষয়ে ইজারা কমিটির সভাপতি ও রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ইজারা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ থেকেও বিরত থাকছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার আনম বজলুর রশীদ বলেন, গত তিন বছরের সম্ভাব্য সরকারি গড় মূল্যের মধ্যে যেটি বেশি, সেটিকেই এ বছরের সম্ভাব্য মূল্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যারা সিডিউল উত্তোলন করেছিলেন তারা যদি বাইরে সমঝোতায় পৌঁছান, সে ক্ষেত্রে দপ্তরের কিছু করার থাকে না। সর্বোচ্চ দরদাতাকেই ইজারা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে, তবে এখনো কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি।
এদিকে সিটি করপোরেশনের অন্যান্য হাট-বাজার ইজারাতেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বলে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে এবং স্বচ্ছ তদন্তের দাবি উঠেছে।
মন্তব্য করুন