
রাজশাহীতে বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিমের ওপর সশস্ত্র হামলা ও চাঁদা দাবির ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (১৬ মার্চ) রাজশাহী মেট্রোপলিটন আদালত-১ এর বিচারক মো. আতাউল্লাহ শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বরেন্দ্র প্রেসক্লাব পরিচালনার নামে কিছুদিন ধরে একটি চক্র ক্লাব কর্তৃপক্ষের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। প্রধান অভিযুক্ত নুরে ইসলাম মিলন ও তার সহযোগী সুরুজ আলীসহ কয়েকজন মিলে প্রায় ৪ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় প্রেসক্লাব সভাপতি রেজাউল করিমের ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়।
গত শনিবার (৭ মার্চ) রাত প্রায় ৮টার দিকে দেশীয় অস্ত্র, চাপাতি ও চাইনিজ কুড়ালসহ একদল সন্ত্রাসী বরেন্দ্র প্রেসক্লাব কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে। হামলার সময় প্রধান অভিযুক্ত নুরে ইসলাম মিলন পিস্তল বের করে ক্লাব সভাপতি রেজাউল করিমের মাথায় ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ সময় সন্ত্রাসীদের আরেক সদস্য সুরুজ আলী ধারালো অস্ত্র দিয়ে রেজাউল করিমের পেটে আঘাত করার চেষ্টা করলে তিনি আত্মরক্ষার্থে হাত দিয়ে তা প্রতিহত করেন। এতে তার উরুতে গুরুতর আঘাত লাগে এবং পরে চিকিৎসকেরা সেখানে ১৩টি সেলাই দেন। বর্তমানে তিনি নিজ বাসায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার পরদিন রোববার (৮ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্ট এলাকায় এ হামলার প্রতিবাদে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে রাজশাহী চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এসএম জ্যোতিউল ইসলাম সাফি বলেন, পুলিশের করা রিমান্ড আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত দুই আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। রিমান্ডে নিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে হামলার পেছনের মূল পরিকল্পনাকারী ও অন্যান্য সহযোগীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
তবে ঘটনার মূল হোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পার হলেও প্রধান অভিযুক্ত নুরে ইসলাম মিলন ও সুরুজ আলীসহ কয়েকজনকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ বিরাজ করছে এবং দ্রুত সব আসামিকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন