
সুন্দরবনে কুমিরের আক্রমণে নিহত বনজীবী সুব্রত মন্ডলের পরিবারের হাতে তিন লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দিয়েছে বন বিভাগ। রবিবার (১৫ মার্চ) সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় কার্যালয়ে এক সংক্ষিপ্ত ও অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ক্ষতিপূরণের চেক হস্তান্তর করা হয়।
অনুষ্ঠানে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে নিহত সুব্রত মন্ডলের স্ত্রী বামনী মন্ডলের হাতে তিন লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন। এ সময় চাঁদপাই রেঞ্জের ঢাংমারী স্টেশন কর্মকর্তা সুরজিৎ চৌধুরীসহ বন বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবনে জীবিকা নির্বাহের জন্য বৈধ পাস নিয়ে কাকড়া আহরণ করতে গিয়েছিলেন বনজীবী সুব্রত মন্ডল। বনজ সম্পদ আহরণের সময় নানা ঝুঁকি ও বন্যপ্রাণীর আক্রমণের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় সরকার বনজীবীদের জন্য বিশেষ ক্ষতিপূরণ সহায়তা কর্মসূচি চালু রেখেছে। সেই কর্মসূচির আওতায় কুমিরের আক্রমণে নিহত হওয়ায় সুব্রত মন্ডলের পরিবারকে এই আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, “সুন্দরবনে বৈধ পাস নিয়ে কাকড়া আহরণ করতে গিয়ে কুমিরের আক্রমণে নিহত হওয়ায় সরকারের পক্ষ থেকে বনজীবী সুব্রত মন্ডলের পরিবারকে তিন লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক প্রদান করা হয়েছে। সুন্দরবনে জীবিকা নির্বাহ করতে গিয়ে অনেক বনজীবী বিভিন্ন ঝুঁকির মুখোমুখি হন। তাই তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা প্রদান করা সরকারের দায়িত্বের অংশ।”
তিনি আরও বলেন, বনজ সম্পদ আহরণের সময় বনজীবীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে এবং বন বিভাগের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে, যাতে এ ধরনের দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব হয়।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর সুন্দরবনে কাকড়া আহরণ শেষে বাড়ি ফেরার পথে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনার শিকার হন সুব্রত মন্ডল। সেদিন তিনি করমজল খাল সাঁতরে পার হয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় হঠাৎ একটি কুমির তাকে আক্রমণ করে টেনে নিয়ে যায়। পরে কিছু সময় পর পানিতে তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ ভেসে ওঠে।
নিহত সুব্রত মন্ডল খুলনার দাকোপ উপজেলার ঢাংমারী গ্রামের বাসিন্দা কুমুদ মন্ডলের ছেলে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। তার মৃত্যুর পর পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়। বন বিভাগের এই ক্ষতিপূরণ সহায়তা তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি বয়ে আনবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানান, সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল বনজীবীরা জীবিকার তাগিদে প্রতিনিয়ত নানা ঝুঁকি নিয়ে বনে প্রবেশ করেন। তাই তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন