
খুলনায় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সামাজিক সংগঠন PATH Bangladesh। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে আয়োজিত এই কর্মসূচি স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতিফলন হিসেবে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নওফেল ইসলাম মঞ্জু। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার।
উদ্বোধনী বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার বলেন, সমাজের দরিদ্র, মেধাবী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি নতুন বাংলাদেশ গঠনের প্রেক্ষাপটে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে আয়োজকদের এ উদ্যোগের প্রশংসা করে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নওফেল ইসলাম মঞ্জু বলেন, মানবিক কর্মকাণ্ড সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনের অন্যতম চালিকাশক্তি। তিনি ভবিষ্যতে সংগঠনের পাশে থেকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন এবং তরুণ সমাজকে এ ধরনের সৃজনশীল ও কল্যাণমূলক কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে এমন একটি সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব যেখানে কোনো মানুষ অসহায় অবস্থায় থাকবে না।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউটেক খুলনার সভাপতি নূরুল ইমাম খান মিঠু এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) এমবিএস ও পিএইচডি অধ্যয়নরত ডা. রিকাত জাহান শ্রী।
সমাপনী বক্তব্যে PATH Bangladesh-এর সভাপতি খন্দকার শামীম সংগঠনের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, সংগঠনটি কেবল সহায়তামূলক উদ্যোগেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং চারটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে কাজ করছে—রুল অব ল, সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য শিক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং দারিদ্র্য বিমোচনে আত্মনির্ভরশীল কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
তিনি আরও বলেন, গত কয়েক বছরে সংগঠনটি তরুণদের সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ প্রদান, অসহায় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং নারীদের জন্য সেলাই প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন বিতরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে।
খন্দকার শামীম জানান, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে এবার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিয়েও কাজ শুরু করেছে সংগঠনটি। ভবিষ্যতে প্রশাসন ও সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি জলবায়ু কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃক্ষরোপণ এবং দুর্যোগকালীন সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
উপহার বিতরণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী শিশুদের মুখে হাসি ফুটে ওঠে, যা আয়োজনটিকে আরও অর্থবহ করে তোলে। আয়োজকদের এমন উদ্যোগ সমাজে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে উপস্থিত অতিথিরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মন্তব্য করুন