
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সংখ্যালঘু গরীব ও অসহায় মানুষের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। ঈদের আনন্দ যেন সমাজের সব স্তরের মানুষের মাঝে সমানভাবে পৌঁছে যায়—এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে মানবিক এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
বুধবার (১৮ মার্চ) বাদ আসর জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের কাদিপুর গ্রামের সাদিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাজন সূত্রধরের বাড়িতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অর্ধশতাধিক সংখ্যালঘু, নিম্ন আয়ের ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়। উমরা মিয়া কোরেশী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এই সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়।
অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা ছিলেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী, উমরা মিয়া কোরেশী ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং সুনামগঞ্জ জেলা মানবাধিকার কাউন্সিলের আজীবন উপদেষ্টা হাবিব আলম কোরেশী। তার সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং আন্তরিক প্রচেষ্টায় এ সহায়তা কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ এলাকার সচেতন নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান, সমাজের অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই তাদের মূল উদ্দেশ্য। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অনেক পরিবার রয়েছে, যারা নানা কারণে সমাজের মূলধারা থেকে পিছিয়ে আছে। তাদের পাশে দাঁড়ানো সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ বলেও তারা উল্লেখ করেন।
উপহার হিসেবে নগদ অর্থ পেয়ে উপকারভোগীরা অত্যন্ত আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, ঈদের সময় এই ধরনের সহায়তা তাদের জন্য বড় স্বস্তির বিষয়। অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা হাবিব আলম কোরেশীর দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেন।
এ প্রসঙ্গে হাবিব আলম কোরেশী বলেন, “সমাজে এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা কখনও কারও কাছে সাহায্যের জন্য হাত পাতেন না। আত্মসম্মানের কারণে তারা তাদের কষ্ট লুকিয়ে রাখেন। আমরা চেষ্টা করি তাদের সম্মান অক্ষুণ্ণ রেখে গোপনে সহায়তা পৌঁছে দিতে, যাতে তারা ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হন।”
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে ফাউন্ডেশন কাজ করে যাবে।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং পারস্পরিক সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করে। ঈদের মতো আনন্দঘন সময়ে এই সহায়তা কার্যক্রম নিঃসন্দেহে সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দেয়।
মন্তব্য করুন