
চাপাইনবাবগঞ্জে হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এক বর্ণাঢ্য মিলনমেলা, ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রাক্তনদের এই ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজনটি স্মৃতিচারণ, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
বুধবার (১৮ মার্চ) বিকাল ৫টায় বিদ্যালয়ের মাঠ প্রাঙ্গণে হরিমোহন প্রাক্তন ছাত্র সমিতির উদ্যোগে এই মিলনমেলার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ১৯৬৭ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মোট ৩৯টি ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। দীর্ঘ সময় পর বিভিন্ন প্রজন্মের সহপাঠীদের একসঙ্গে মিলিত হওয়ার এই সুযোগটি অংশগ্রহণকারীদের মাঝে ব্যাপক আনন্দ ও উৎসাহ সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন হরিমোহন প্রাক্তন ছাত্র সমিতির সভাপতি আজাহারুল ইসলাম পিন্টু, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোঃ আসাদুজ্জামান পলাশ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারেকুল রহমান তারেক। তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে বিশাল এই আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
মিলনমেলায় অংশ নেওয়া প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বহুদিন পর পুরোনো বন্ধু ও সহপাঠীদের কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কেউ কেউ শৈশব-কৈশোরের স্মৃতি রোমন্থন করেন, আবার কেউ ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে হারিয়ে যাওয়া বন্ধুত্বকে নতুন করে ফিরে পান। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল এক উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত পরিবেশ।
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে সবাই একসঙ্গে ইফতার করেন এবং পরবর্তীতে দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন। এতে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং সকলের মঙ্গল কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন হরিমোহন গাবতলা মসজিদের ইমাম মোঃ মনিরুল ইসলাম।
প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বলেন, এ ধরনের আয়োজন তাদের মধ্যে সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে এবং একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে সহায়তা করে। তারা আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন নিয়মিতভাবে চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এমন মিলনমেলার আয়োজন করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে তারা জানান।
সব মিলিয়ে, হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এই মিলনমেলা শুধু একটি পুনর্মিলনী নয়, বরং এটি ছিল স্মৃতি, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
মন্তব্য করুন