
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে ঠাকুর চাঁন (২৮) নামে এক জেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় তার বাবা জনারদনসহ আরও দুইজন আহত হয়েছেন। বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক সোয়া ১টার দিকে উপজেলার মুছাপুর ক্লোজার সংলগ্ন ছোট ফেনী নদীর খালের মধ্যে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ঠাকুর চাঁন উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জেলে পাড়ার বাসিন্দা। তিনি জনারদনের ছেলে এবং জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে মাছ ধরার কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্থানীয় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার গভীর রাতে জনারদন তার ছেলে ঠাকুর চাঁন এবং আরও দুইজনকে নিয়ে ছোট ফেনী নদীর খালে মাছ ধরতে যান। রাতের নির্জনতায় তারা মাছ ধরায় ব্যস্ত থাকাকালে হঠাৎ করেই আকাশে মেঘ জমে এবং বজ্রপাত শুরু হয়। এক পর্যায়ে প্রবল বজ্রপাত সরাসরি তাদের ওপর আঘাত হানে, এতে ঘটনাস্থলেই সবাই গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় জেলেরা ও এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসেন। তবে গুরুতর আহত অবস্থায় ঠাকুর চাঁন ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহতদের মধ্যে রবিউল হোসেন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আশঙ্কামুক্ত থাকলেও জনারদনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার পরপরই এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটছে, যা জেলে ও খোলা স্থানে কাজ করা মানুষের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকিম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বজ্রপাতে এক জেলের মৃত্যু এবং আরও দুইজন আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
এদিকে, সচেতন মহল বলছে, বজ্রপাতের সময় নদী, খাল বা খোলা স্থানে অবস্থান করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কবার্তা মেনে চলা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ায় মাছ ধরার মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে বিরত থাকা জরুরি। একই সঙ্গে জেলেদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, কোম্পানীগঞ্জের এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সামান্য অসতর্কতাও বড় ধরনের বিপদের কারণ হতে পারে। তাই জীবনের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা সবার জন্যই অত্যন্ত জরুরি।
মন্তব্য করুন