
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ ইমতিয়াজ উদ্দিন মোহাম্মদ আমানউল্লাহ। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, তৃণমূল পর্যায়ে শক্ত অবস্থান এবং জনসম্পৃক্ততার কারণে ইতোমধ্যেই তিনি এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন।
১৯৭৪ সালের ২৫ নভেম্বর ধুকুরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ইমতিয়াজ উদ্দিন। তাঁর পিতা মরহুম আব্দুল আজিজ এবং মাতা মরহুমা করিমন নেছা। নিজ এলাকার সাধারণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা এই নেতা শিক্ষাজীবনে বি.এস.এস (পাস) সম্পন্ন করেন এবং ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন।
রাজনৈতিক জীবনের শুরু ১৯৯০ সালে ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে। পরবর্তীতে ১৯৯১-৯২ এবং ১৯৯৩-৯৪ শিক্ষাবর্ষে বেলকুচি কলেজ ছাত্র সংসদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পদে নির্বাচিত হয়ে নেতৃত্বের দক্ষতা প্রদর্শন করেন। এরপর ধাপে ধাপে তিনি বেলকুচি উপজেলা বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৯ সালে বেলকুচি উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি মূলধারার রাজনীতিতে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ২০১১ সালে সিরাজগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলে যুগ্ম আহ্বায়ক এবং একই বছরে বেলকুচি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি বেলকুচি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ইমতিয়াজ উদ্দিন। ধুকুরিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে শিক্ষা খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। স্থানীয়দের মতে, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে তাঁর ভূমিকা প্রশংসনীয়।
তবে তাঁর রাজনৈতিক জীবন সবসময় মসৃণ ছিল না। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অতীতে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তিনি একাধিকবার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং এক পর্যায়ে মৃত্যুর মুখোমুখিও হন। কিন্তু এসব প্রতিকূলতা তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারেনি; বরং তিনি আরও দৃঢ়ভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে রাজনীতি করে যাচ্ছেন।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে তাঁর প্রার্থিতা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে ধুকুরিয়া গ্রামের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে প্রায় সাড়ে সাত হাজার ভোটার রয়েছে, যেখানে ঐতিহ্যগতভাবে ভোটাররা ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট প্রদান করে থাকেন। স্থানীয়দের ধারণা, এই ভোটব্যাংক নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এবং সেখানে ইমতিয়াজ উদ্দিনের শক্ত অবস্থান রয়েছে।
প্রার্থী হিসেবে নিজের অবস্থান তুলে ধরে ইমতিয়াজ উদ্দিন বলেন, “আমি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় এবং জনগণ যদি আস্থা রাখে, তাহলে এই ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, উন্নত ও দুর্নীতিমুক্ত মডেল ইউনিয়নে রূপান্তর করবো।”
স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মতে, তাঁর অভিজ্ঞতা, সততা এবং জনসম্পৃক্ততা তাঁকে একজন যোগ্য প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তাঁর প্রার্থিতা ইউনিয়নের উন্নয়ন কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
মন্তব্য করুন