
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গভীর রাতে দুই পক্ষের মধ্যে টর্চলাইট জ্বালিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী-পুরুষসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাতের দিকে উপজেলার হামিরদি ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপীনাথপুর গ্রামের ওসমান নামে এক যুবকের স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলা নিয়ে পাশের বাড়ির মাসুদ নামের আরেক যুবকের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ওসমানের অভিযোগ, মাসুদের কারণেই তার সংসার ভেঙে গেছে এবং তার স্ত্রীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।
এ ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওসমান মাসুদের বাড়িতে গিয়ে তাকে মারধর করেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয়রা তারাবির নামাজের পর একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করে।
তবে সালিশ চলাকালীন উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়। এ সময় মাসুদের ভাই ইশারত ওসমানকে গলাটিপে ধরলে দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ওসমানের পক্ষ নেয় সরোয়ার হোসেন মাতুব্বর এবং মাসুদের পক্ষ নেয় মহাসিন মাতুব্বরের অনুসারীরা।
পরে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। রাতের অন্ধকারে টর্চলাইট জ্বালিয়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে এবং প্রায় এক ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে সংঘর্ষ চলতে থাকে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হন বলে জানা গেছে।
ভাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মামুন হাওলাদার বলেন, “একজনের স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলা নিয়ে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত। অন্ধকারে ইট-পাটকেলের আঘাতে কয়েকজন আহত হয়েছেন।”
তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন