
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় রাজনৈতিক অঙ্গনে বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী হাওয়া। এখনো তফসিল ঘোষণা না হলেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচারণা, পোস্টার এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব উপস্থিতিতে নির্বাচনী আমেজ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে গ্রামীণ জনপদ—সবখানেই এখন নির্বাচনের আলোচনা।
এই প্রেক্ষাপটে কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলহাজ্ব মো. আরশ মিয়ার নাম ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছে। উপজেলার দক্ষিণ কান্দিগ্রামের মৃত ফুল মিয়ার ছেলে আরশ মিয়া স্থানীয় রাজনীতি, ব্যবসা ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকায় ইতোমধ্যেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন।
বর্তমানে তিনি কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি দ্বাড়িয়াকান্দি-কান্দিগ্রাম বাসস্ট্যান্ড বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা কমিটির সভাপতি এবং মেসার্স নিউ সততা পোল্ট্রি ফিড অ্যান্ড চিকস-এর স্বত্বাধিকারী হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিক অঙ্গনে তার সক্রিয়তা, তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ তাকে একটি শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত আরশ মিয়া দীর্ঘদিন ছয়সূতী ইউনিয়ন বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি প্রায় এক দশক ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং বর্তমানে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দলীয় কার্যক্রমকে সক্রিয় রাখতে তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
রাজনীতির পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও সম্পৃক্ত। দ্বাড়িয়াকান্দি-কান্দিগ্রাম বাসস্ট্যান্ড কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, দক্ষিণ কান্দিগ্রাম বায়তুল ফালাহ জামে মসজিদ, স্থানীয় কবরস্থান ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটিসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানে তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া বিভিন্ন সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা হিসেবেও যুক্ত রয়েছেন।
একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে স্থানীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখার পাশাপাশি দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। বিশেষ করে করোনাকালীন সময় ও বিভিন্ন দুর্যোগে তার সহায়তামূলক উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
স্থানীয়দের মতে, আরশ মিয়া একজন সৎ, পরিশ্রমী ও নীতিবান ব্যক্তি, যিনি দীর্ঘদিন ধরে মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন। তার অনুসারীরা মনে করছেন, ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা আসন্ন নির্বাচনে তার পক্ষে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
এ বিষয়ে আরশ মিয়া বলেন, “আমি সবসময় মানুষের জন্য রাজনীতি করেছি। ছয়সূতী ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য। জনগণের সমর্থন পেলে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমি নিরলসভাবে কাজ করে যাব।”
স্থানীয় ভোটারদের প্রত্যাশা, আগামী নির্বাচনে যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত হবে। সেই প্রত্যাশা নিয়েই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আরশ মিয়া।
মন্তব্য করুন