
বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার মাধ্যমে শেষ হলো দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনা। শুক্রবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চাঁদ দেখার খবর পর্যালোচনা করে তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।
চাঁদ দেখা যাওয়ার ফলে আগামী শনিবার (২১ মার্চ) সারাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্যাপিত হবে। এক মাস রোজা রাখার পর মুসলমানরা শাওয়াল মাসের প্রথম দিনে এই আনন্দঘন উৎসব উদ্যাপন করেন। ঈদুল ফিতর ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জন্য অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব, যা পারস্পরিক ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের এক অনন্য বার্তা বহন করে।
রমজান মাসজুড়ে আত্মসংযম, ইবাদত-বন্দেগি এবং আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে যে আধ্যাত্মিক অনুশীলন করা হয়, তারই পরিপূর্ণতা আসে ঈদুল ফিতরের আনন্দে। ধনী-গরিব নির্বিশেষে সকল মুসলমান একসঙ্গে নামাজ আদায়, কোলাকুলি এবং শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে এই দিনটি উদ্যাপন করেন। এছাড়া যাকাতুল ফিতর প্রদান করার মাধ্যমে সমাজের অসচ্ছল মানুষের মাঝেও ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে ইসলামে।
হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, প্রতিটি মাস চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল এবং সাধারণত ২৯ বা ৩০ দিনে পূর্ণ হয়। ২৯ রমজান শেষে চাঁদ দেখা গেলে পরদিনই ঈদ উদ্যাপিত হয়, আর চাঁদ দেখা না গেলে রমজান ৩০ দিনে পূর্ণ হয় এবং তার পরদিন ঈদ পালিত হয়। এ বছর ২৯ রমজানেই চাঁদ দেখা যাওয়ায় নির্ধারিত সময়েই ঈদ উদ্যাপনের সুযোগ এসেছে।
দেশজুড়ে ইতোমধ্যেই ঈদের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কেট, শপিংমল ও গ্রামাঞ্চলে কেনাকাটার শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা চোখে পড়ছে। শহর থেকে গ্রামে প্রিয়জনের কাছে ফিরতে মানুষের ঢল নেমেছে পরিবহন খাতে। ঈদকে ঘিরে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন সবাই।
পবিত্র ঈদুল ফিতর শুধু আনন্দের উৎসবই নয়, বরং এটি ক্ষমা, সহানুভূতি ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। এই দিনে সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে মানুষ একে অপরের কাছে এগিয়ে আসে, যা একটি শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মন্তব্য করুন