
নড়াইলের পৃথক দুটি ঘটনায় একদিকে পৌরসভার ময়লার স্তূপ থেকে অজ্ঞাতনামা এক বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ, অন্যদিকে জিনের বাদশা পরিচয়ে প্রতারণা করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া এক প্রতারককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ দুই ঘটনাকে ঘিরে জেলায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রথম ঘটনায়, শুক্রবার (২০ মার্চ) বিকাল আনুমানিক ৪টার দিকে নড়াইল সদর উপজেলার সীতারামপুর গ্রামের পৌরসভার ময়লার স্তূপ থেকে প্রায় ৭০ বছর বয়সী এক অজ্ঞাতনামা বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করে সদর থানা পুলিশ। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটি উদ্ধার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এলাকাবাসী ময়লার স্তূপে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হলে থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এখনো পর্যন্ত মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে তার পরিচয় উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওলি মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “ময়লার স্তূপ থেকে অজ্ঞাতনামা এক বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”
অপরদিকে, জেলার লোহাগড়া উপজেলায় জিনের বাদশা সেজে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মো. বিল্লাল হোসেন (৩২) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৮ মার্চ) দিবাগত রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলার চনপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত বিল্লাল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয়ে প্রতারণা করে আসছিল। তিনি ‘কবিরাজ আবু তালহা’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করে মানুষের বিভিন্ন রোগ সারানোর নামে প্রলোভন দেখাতেন। এক ভুক্তভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি দাবি করেন, তার সন্তানের ওপর জিনের প্রভাব রয়েছে এবং তা দূর করতে বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন।
ভুক্তভোগী তার সন্তানের সুস্থতার আশায় প্রতারকের কথায় বিশ্বাস করে গত বছরের আগস্ট মাসে বিভিন্ন ধাপে মোট ১৪ লাখ ৪৪ হাজার টাকা প্রদান করেন। পরবর্তীতে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি লোহাগড়া থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার প্রেক্ষিতে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে লোহাগড়া থানার পুলিশ নারায়ণগঞ্জ থেকে বিল্লাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রহমান বলেন, “জিনের বাদশা পরিচয়ে প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, উভয় ঘটনার বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
মন্তব্য করুন