
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ মুহূর্ত এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় রূপ নিয়েছে। ঘুরতে গিয়ে ভাসমান সেতু ভেঙে ব্রহ্মপুত্র নদে পড়ে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আরও এক শিশু এখনো নিখোঁজ রয়েছে। শনিবার (২১ মার্চ) বিকেলে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার সামনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে বিপুল সংখ্যক মানুষ দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার সামনে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নির্মিত ভাসমান সেতুতে ভিড় করেন। শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে সেতুটিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সেতুটি হঠাৎ ভেঙে নদীতে পড়ে যায় অনেকেই। এ সময় উপস্থিত বেশিরভাগ মানুষ সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও পাঁচ শিশু নিখোঁজ হয়ে যায়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেওয়ানগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। স্থানীয়দের সহায়তায় নদী থেকে তিন শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া আরেক শিশুকে দ্রুত দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এদিকে নিখোঁজ থাকা অপর শিশুকে উদ্ধারে এখনো অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা।
নিহতদের মধ্যে রয়েছে ডাকাতিয়াপাড়া গ্রামের জয়নাল মিয়ার ১০ বছর বয়সী কন্যা মায়ামনি, ঝালুরচর এলাকার শের আলীর ৬ বছর বয়সী ছেলে আব্দুল মোতালেব এবং তার ১২ বছর বয়সী কন্যা খাদিজা। এছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া শিশুটির নাম শান্তি বলে জানা গেছে।
দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আহম্মদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এটি একটি অত্যন্ত মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে এবং নিখোঁজ শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
এই দুর্ঘটনায় ঈদের আনন্দ মুহূর্তেই শোকের ছায়ায় ঢেকে গেছে পুরো দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা। স্বজন হারানোর বেদনায় নিহতদের পরিবারে চলছে আহাজারি। স্থানীয়দের মাঝে নেমে এসেছে গভীর শোক ও আতঙ্ক।
এ ঘটনায় সেতুর নিরাপত্তা ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ তদারকি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
মন্তব্য করুন