
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় স্কুলে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মাহমুদা আক্তার নামে এক সহকারী শিক্ষিকার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার টান সূত্রাপুর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক শোকের ছায়া নেমে এনেছে।
নিহত মাহমুদা আক্তার উপজেলার ঢোলসমুদ্র গ্রামের মোয়াজ্জেম হোসেনের মেয়ে। তিনি টান সূত্রাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং স্থানীয়ভাবে একজন দায়িত্বশীল ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ২৬ মার্চের বিভিন্ন কর্মসূচির প্রস্তুতিতে অংশ নিতে তিনি মঙ্গলবার সকালে নিজ বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। লতিফপুর এলাকা থেকে অটোরিকশাযোগে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক হয়ে স্কুলে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে লতিফপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে পেছন দিক থেকে আসা একটি অজ্ঞাত দ্রুতগামী গাড়ি তাকে চাপা দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের মতে, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। সহকর্মী শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নেমে আসে গভীর শোক ও হতাশা। অনেকেই ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং প্রিয় শিক্ষিকার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, “এ ধরনের মৃত্যু কখনোই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি একজন সৎ, দায়িত্বশীল ও কর্মঠ শিক্ষিকা ছিলেন। তার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।”
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার নাসির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনাকবলিত অজ্ঞাত গাড়িটিকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়কে বেপরোয়া যানবাহন চলাচল ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের অভাবের কারণে প্রায়ই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, সড়কে নজরদারি বৃদ্ধি এবং দোষীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মাহমুদা আক্তারের মৃত্যুতে তার পরিবার, সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের মাঝে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন