
আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীতা ঘোষণা করেছেন সাবেক ছাত্রদল নেতা ও আইনজীবী এডভোকেট এম রাশেদুজ্জামান রাশেদ। তফসিল এখনো ঘোষণা না হলেও আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী মাঠে নামার ঘোষণা দেন।
সোমবার (২৩ মার্চ ২০২৬) বিকেলে নলডাঙ্গা উপজেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার প্রার্থীতা ঘোষণা করেন। এ সময় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে এডভোকেট রাশেদুজ্জামান রাশেদ বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে জনগণের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। নলডাঙ্গা উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করার লক্ষ্য নিয়েই আমি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীতা ঘোষণা করছি।” তিনি জানান, নির্বাচিত হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কাজ করবেন।
তিনি আরও বলেন, “নলডাঙ্গা উপজেলাকে একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও উন্নয়নমুখী উপজেলায় পরিণত করাই আমার প্রধান লক্ষ্য। ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে। একইসঙ্গে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” তিনি জনগণের সমর্থন ও দোয়া কামনা করে বলেন, “জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা নিয়ে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ নলডাঙ্গা গড়ে তুলতে চাই, ইনশাআল্লাহ।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত স্থানীয় বিএনপি নেতারা তার প্রার্থীতাকে স্বাগত জানান এবং তাকে একজন যোগ্য ও প্রতিশ্রুতিশীল প্রার্থী হিসেবে অভিহিত করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, তার নেতৃত্বে নলডাঙ্গা উপজেলায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও বেগবান হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা গোলাম মোস্তফা, মইনুল ইসলাম, আক্তার হোসেন, শাজাহান আলী, মোতালেব হোসেন, সোহেল মাস্টার, আলমগীর হোসেন, আব্দুল মোমিনসহ আরও অনেকে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তফসিল ঘোষণার আগেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের মাঠে নামা নির্বাচনী প্রতিযোগিতাকে আরও সক্রিয় করে তুলছে। এতে করে ভোটারদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হচ্ছে এবং প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান শক্ত করার সুযোগ পাচ্ছেন।
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে নলডাঙ্গায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যেই চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠ গোছাতে শুরু করেছেন। এডভোকেট এম রাশেদুজ্জামান রাশেদের প্রার্থীতা ঘোষণার মাধ্যমে এই প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, তারা এমন একজন জনপ্রতিনিধি চান, যিনি সত্যিকার অর্থে জনগণের পাশে থাকবেন এবং এলাকার উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে কারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং ভোটাররা কাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নেন।
মন্তব্য করুন