
রাজশাহীতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, যার ফলে ঈদুল ফিতরের পরদিন থেকেই চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকরা। জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে তেলের সরবরাহ বন্ধ থাকায় অনেক পাম্প পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে প্রতিদিন হাজার হাজার গ্রাহক তেল নিতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফিরে যাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীর মোট ৪৪টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে অর্ধেকের বেশি ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। যেগুলো খোলা রয়েছে, সেখানেও তেলের মজুত প্রায় শেষ পর্যায়ে। বিশেষ করে পেট্রল ও অকটেনের সরবরাহ একেবারেই বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকরা। ডিজেলের ক্ষেত্রেও চাহিদার তুলনায় মাত্র ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে।
ফিলিং স্টেশন মালিকরা জানিয়েছেন, ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় অনেক কম তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে তারা গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করতে পারছেন না। অনেক ক্ষেত্রে তেল না থাকায় গ্রাহকদের ক্ষোভ ও অসন্তোষের মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাধ্য হয়ে অনেক স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
তেল নিতে আসা এক ভুক্তভোগী বখতিয়ার শাহরিয়ার জানান, তিনি সোমবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত জেলা ও মহানগরীর প্রায় ২০টি পাম্প ঘুরেছেন, কিন্তু কোথাও তেল পাননি। মঙ্গলবারও কয়েকটি পাম্পে গিয়েও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। তার অভিযোগ, কিছু পাম্পে তেল থাকা সত্ত্বেও তা বিক্রি না করে মজুত করে রাখা হচ্ছে।
রাজশাহী জেলা পেট্রল পাম্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান শিমুল বলেন, ঈদের আগেই পাম্পগুলোতে থাকা তেলের মজুত শেষ হয়ে গেছে। ফলে ঈদের তৃতীয় দিন পর্যন্ত পেট্রল ও অকটেনের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। তিনি জানান, বাঘাবাড়ি ডিপোতে পাঠানো একটি লরির ধারণক্ষমতা সাড়ে ১৩ হাজার লিটার হলেও সেখানে মাত্র তিন হাজার লিটার তেল সরবরাহ করা হয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে ডিপো থেকে মূলত ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে, কিন্তু পেট্রল ও অকটেন পাওয়া যাচ্ছে না। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সংকট আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, তেল বিক্রি শুরু হলে গ্রাহকদের ভিড় ও সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন পাম্প মালিকরা। তারা মনে করছেন, শুধুমাত্র পুলিশের পক্ষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হতে পারে।
সার্বিকভাবে, জ্বালানি তেলের এই সংকট রাজশাহীর জনজীবনে স্থবিরতা সৃষ্টি করেছে। দ্রুত পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
মন্তব্য করুন