
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এক ব্যক্তির ওপর হামলার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) সকালে জেলা শহরের হুজরাপুর মন্ডল মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় চাঁপাই প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী আশরাফুল হক (৫৭) তার ওপর সংঘটিত হামলার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে আশরাফুল হক জানান, তিনি ক্রয়সূত্রে প্রাপ্ত জমি ও বসতবাড়ি নিজ নামে খারিজ করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছিলেন। কিন্তু একই এলাকার সামসুল জোহা (৪৮) হঠাৎ করে ওই জমির ওপর দাবি তুলে বিরোধ সৃষ্টি করেন এবং বিভিন্ন সময় জমি দখলের হুমকি দেন। এ ঘটনায় আশরাফুল হক ২০২৩ সালে গোমস্তাপুর সহকারী জজ আদালতে একটি বাটোয়ারা মামলা (নং-১৪৩/২০২৩) দায়ের করেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে হুমকির ঘটনা বাড়তে থাকলে তার স্ত্রী নাজিরা বেগম নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সামসুল জোহার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেন (নং-৩২পি/২০২৩)। অভিযোগ করা হয়, ওই বিরোধের জের ধরে তার স্ত্রীকে মারধর ও বাড়িঘরে ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় আশরাফুল হক গোমস্তাপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আরও একটি মামলা দায়ের করেন (সি.আর-৭৮৯/২০২৩), যা এখনও চলমান রয়েছে।
একই ঘটনায় ২০২৪ সালের ৪ মে গোমস্তাপুর থানায় তিনি আরেকটি মামলা করেন, যেখানে গুরুতর আঘাতসহ একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়। এছাড়া ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে পুনরায় হুমকির অভিযোগে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেন, যা পরবর্তীতে আদালতে নন-এফআইআর প্রসিকিউশন হিসেবে প্রেরণ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আশরাফুল হক দাবি করেন, চলতি বছরের ২২ মার্চ ভোরে বোয়ালিয়া ইউনিয়নের মিনি বাজার এলাকায় রাকিবের চায়ের দোকানের সামনে তার ওপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়। এ সময় তার কাছ থেকে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সামসুল জোহার বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ থাকায় কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুঠোফোনে জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন