
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা সদরস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং সর্বস্তরের মানুষ।
২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার ভোরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রথমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ। এরপর পর্যায়ক্রমে উপজেলা প্রশাসন, বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও নীরবতা পালন করা হয়।
শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ শেষে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বরকত উল্লাহ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে দেশ গঠনে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, স্বাধীনতার এই মহিমান্বিত দিন আমাদের জাতীয় জীবনে অনুপ্রেরণার উৎস এবং নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার অন্যতম উপলক্ষ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার (প্রবি) মো. ইমাম হোসেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মহসীন উদ্দিন, থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী। এছাড়াও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু হোরায়রা সাদ মাস্টার, যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল উদ্দিন, কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. খালেদ সাইফুল্লাহ, শিক্ষা কর্মকর্তা মাহাবুবুল আলমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাইয়ূমসহ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধা, স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসকবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, ছাত্র ও যুব সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত সকলেই শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা এলজিইডি অফিসের ধীরেন্দ্র সূত্রধর। সার্বিকভাবে দিবসটির আয়োজন ছিল সুশৃঙ্খল, অংশগ্রহণমূলক এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার মতো।
সব মিলিয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই আয়োজন স্বাধীনতার চেতনা নতুন করে জাগ্রত করেছে এবং শহীদদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
মন্তব্য করুন