
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় রাজনৈতিক পরিচয় বদল নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ধাওয়া ইউনিয়ন তাঁতী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়ামিন ওসমান সম্রাট। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তাঁর অবস্থান বদল এবং নতুন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের বিদায়ের প্রেক্ষাপটে সম্রাট দ্রুত নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। যদিও এর আগে তিনি ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন, পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে ইউনিয়ন তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ লাভ করেন এবং এলাকায় প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিতি পান।
অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের শাসনামলে উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সহায়তায় তিনি এই পদে অধিষ্ঠিত হন। একই সময়ে তিনি সাবেক সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন মাহারাজের নামে একটি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। তবে ওই প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে।
গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করলেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশগ্রহণ শুরু করেন। এমনকি নিজেকে বিএনপির ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে দলটির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গঠিত একটি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য পদও লাভ করেন বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সম্রাট কর্তৃক প্রকাশিত শুভেচ্ছা পোস্টার ঘিরে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ওই পোস্টারে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সংশ্লিষ্ট আসনের নেতাদের ছবি ব্যবহার করা হয়। এর আগে আওয়ামী লীগ আমলে তাঁর পোস্টারে শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা ও মহিউদ্দিন মাহারাজের ছবি ব্যবহৃত হয়েছিল।
এছাড়া নাম পরিবর্তন নিয়েও আলোচনা চলছে। আওয়ামী লীগ আমলে তিনি ‘ইয়ামিন ওসমান সম্রাট’ নামে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে ‘মো. সম্রাট সিকদার’ নামে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
আরও জানা গেছে, বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পর গত ২৬ জানুয়ারি তিনি স্থানীয় একটি বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর এই দ্রুত রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন এবং প্রভাব বিস্তারের বিষয়টি নিয়ে ভাণ্ডারিয়া বিএনপির ভেতরেও নানা মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মো. জুয়েল মৃধার আত্মীয় হওয়ায় সম্রাটের রাজনৈতিক উত্থান নিয়ে দলের অভ্যন্তরেও আলোচনা চলছে।
পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সম্রাটের এই অবস্থান ভবিষ্যতে কোন দিকে গড়ায়, তা নিয়ে স্থানীয় জনমনে কৌতূহল ও প্রশ্ন উভয়ই বিদ্যমান।
মন্তব্য করুন