
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ। বুধবার (২৬ মার্চ) রাতে উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পূর্ব পাশে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চন্দ্রা এলাকায় ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজের বিপরীত পাশে মহাসড়কে একদল সংঘবদ্ধ ডাকাত চলমান যানবাহন ও পথচারীদের টার্গেট করে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলের সদস্যরা পালানোর চেষ্টা করলে চারজনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। তবে এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন সদস্য দৌড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার বিশ্বাসপাড়া এলাকার মৃত সাফিজ উদ্দিন সর্দারের ছেলে স্বাধীন (২৮) ও তার ভাই শাহাদাত সর্দার (২৫), টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার ছেউটি খলপাড়া এলাকার মৃত শফি মিয়ার ছেলে মো. আকাশ (২৭) এবং ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া থানার বাদিহাটি এলাকার মৃত ইব্রাহিমের ছেলে মো. শাকিল (২৫)। এদের মধ্যে আকাশ ও শাকিল কালিয়াকৈরের বিশ্বাসপাড়া এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন।
অভিযানকালে গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে একটি ধারালো লম্বা ছুরি, লোহার তৈরি চাপাতি এবং কালো রঙের লম্বা বৈদ্যুতিক কেবল উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে, এসব অস্ত্র ব্যবহার করে তারা মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহন থামিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে মূল্যবান মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছিল।
কালিয়াকৈর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর আলম জানান, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে ডাকাত দলের চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পলাতক সদস্যদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে মহাসড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
স্থানীয়দের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মহাসড়ক এলাকায় ছিনতাই ও ডাকাতির আশঙ্কা বাড়ছিল। পুলিশের এমন অভিযানে তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন