
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খাগড়াছড়ি জেলার ২০৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৮৫টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জেলা নির্বাচন অফিস। এর মধ্যে ৬৩টি কেন্দ্রকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় এসব কেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
খাগড়াছড়ি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এস. এম. শাহাদাত হোসেন জানান, পুলিশের বিশেষ শাখা (ডিএসবি) ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গোয়েন্দা প্রতিবেদনের আলোকে কেন্দ্রগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে কাজ চলছে।”
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, খাগড়াছড়ির তিনটি উপজেলা—খাগড়াছড়ি সদর, পানছড়ি ও দীঘিনালা—এ মোট ২০৩টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১৮টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিমুক্ত বা সাধারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় দুর্গম এলাকা, যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, অতীত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা ও সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতা ঝুঁকির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশ সুপার সায়েম মির্জা সায়েম মাহমুদ বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ ও অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ, আনসার ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি টহল জোরদার, চেকপোস্ট স্থাপন এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হবে।” তিনি আরও জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল (কুইক রেসপন্স টিম) প্রস্তুত থাকবে।
নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা জানান, পাহাড়ি জেলার ভৌগোলিক অবস্থান ও বিচ্ছিন্ন জনপদের কারণে ভোটগ্রহণ ব্যবস্থাপনা তুলনামূলকভাবে চ্যালেঞ্জিং। বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও দুর্গম ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়তি প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়। এ কারণে আগেভাগেই কেন্দ্রগুলোর ঝুঁকি মূল্যায়ন করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।
জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে, খাগড়াছড়ি জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫৪ হাজার ১১৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৮৬ হাজার ৩২১ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৬৭ হাজার ৭৯৩ জন। ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র চিহ্নিত করে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হলে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা এড়ানো সম্ভব হবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে খাগড়াছড়িতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
মন্তব্য করুন