
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম সুন্দরবনে বনদস্যু দমন ও নিরাপত্তা জোরদারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং নিয়মিত যৌথবাহিনীর অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হরিনগর বাজার এলাকায় মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম-কে সংবর্ধনা জানানো হয়।
মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির গাজী আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাস্টার আনিছুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এমপি গাজী নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুর রহমান, সাবেক আমির আলহাজ্ব মাওলানা আব্দুল মজিদসহ স্থানীয় জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াত নেতা ফজলুল হক, আবুল কালাম আজাদ, মোফাজ্জল হক, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল জলিল, রমিজুল ইসলাম, মো. বাবলুর রহমান, আলামিন হোসেন এবং ইউনিয়ন ছাত্রশিবির সভাপতি হুসাইন আল মামুনসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা। সংবর্ধনা উপলক্ষে সংগঠনের পক্ষ থেকে এমপিকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবন দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ, যা রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তিনি বলেন, “সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করতে সংসদের সর্বোচ্চ পর্যায়ে বিষয়টি তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি প্রতি মাসে অন্তত দুইবার যৌথবাহিনীর অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে দস্যুদের দমন করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, সুন্দরবন অঞ্চলে বসবাসকারী সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের জীবিকা নির্বিঘ্ন রাখতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এজন্য প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্থানীয় জনগণের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এমপি গাজী নজরুল ইসলামের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সুন্দরবন এলাকায় দীর্ঘদিনের দস্যু সমস্যা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে। একই সঙ্গে তারা এলাকার উন্নয়ন, নিরাপত্তা এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও জোরদারের দাবি জানান।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ইতিবাচক সাড়া ফেলে এবং নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।
মন্তব্য করুন