
রাজশাহীতে বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিমের ওপর সশস্ত্র হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সাংবাদিক নেতারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল ১১টায় রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে আয়োজিত এই মানববন্ধনে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচিতে বক্তারা হামলাটিকে পরিকল্পিত, ন্যাক্কারজনক ও সাংবাদিক সমাজকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অপচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা জানান। একইসঙ্গে তারা দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি ও হামলার শিকার রেজাউল করিম বলেন, “আমি শুধু একজন ব্যক্তি নই, আমি সাংবাদিক সমাজের প্রতিনিধি। আমার ওপর এই হামলা মূলত পুরো সাংবাদিক সমাজকে আতঙ্কিত করার একটি অপচেষ্টা। দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র আমাদের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। আমরা তা প্রত্যাখ্যান করায় পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, হামলার সময় সন্ত্রাসীরা তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করে। আত্মরক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি গুরুতর আহত হন এবং তার শরীরে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও প্রধান আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় তিনি ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম, সহ-সভাপতি শেখ রহমতুল্লাহ, কোষাধ্যক্ষ মামুনুর রশীদসহ অন্যান্য সাংবাদিক নেতারা। তারা অভিযোগ করেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভাড়া করা যানবাহনে করে সন্ত্রাসীরা এসে এই হামলা চালিয়েছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য মারাত্মক উদ্বেগজনক।
এছাড়াও, রিভারসিটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা রাব্বানী বলেন, প্রধান অভিযুক্ত নূরে ইসলাম মিলন ও সুরুজ আলী এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় রয়েছে। দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
এদিকে, রাজশাহী প্রেসক্লাব থেকে অভিযুক্তদের সাময়িক বরখাস্ত করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। বক্তারা দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ এবং অভিযুক্তদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবি জানান।
উল্লেখ্য, গত ৭ মার্চ রাত ৮টার দিকে রাজশাহীর শিরোইল কাঁচাবাজার এলাকায় অবস্থিত বরেন্দ্র প্রেসক্লাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় একদল সন্ত্রাসী। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় এই হামলা সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে রেজাউল করিম গুরুতর আহত হন এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় বোয়ালিয়া মডেল থানায় নূরে ইসলাম মিলন, সুরুজ আলীসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও এ বিষয়ে কাজ করছে।
সাংবাদিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে রাজশাহীতে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
মন্তব্য করুন