
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় সড়ক নিরাপত্তা জোরদার এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে “রামপাল সচেতন নাগরিক সমাজ” নামে একটি নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল ১০টায় উপজেলার ‘আমাদের গ্রাম ডিজিটাল সেন্টার’-এ আয়োজিত এক সভায় ৪১ সদস্যবিশিষ্ট এ কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়।
নবগঠিত কমিটিতে অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ জালাল উদ্দিনকে আহ্বায়ক এবং সাংবাদিক এম. এ. সবুর রানাকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। এছাড়া কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ সুলতান আহমেদ। যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শেখ আ. মান্নান, অবসরপ্রাপ্ত মেজর মল্লিক মনিরুজ্জামান, রামপাল সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আব্দুল হান্নান এবং গিলাতলা সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আফরোজা বেগম।
সভায় বক্তারা খুলনা-মোংলা মহাসড়কে ধারাবাহিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে গত ১২ মার্চ বেলাই ব্রিজ এলাকায় সংঘটিত মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৯ জনসহ মোট ১৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনা সকলকে ব্যথিত করেছে। এ প্রেক্ষাপটে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, যানবাহন ও পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং প্রাণহানি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শেখ সুলতান আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন গ্রাম ক্যান্সার কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক রেজা সেলিম। তিনি বলেন, “সচেতনতা, নিয়ম মেনে চলা এবং প্রশাসনের কার্যকর তদারকি—এই তিনটি বিষয় নিশ্চিত করা গেলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।”
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুকান্ত কুমার পাল, অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ জালাল উদ্দিন, অ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন শেখ, শেখ আ. মান্নান, মেজর (অব.) মল্লিক মনিরুজ্জামান, অধ্যক্ষ মো. আব্দুল হান্নান এবং শিক্ষিকা আফরোজা বেগমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাব রামপালের সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় শিক্ষক, সাংবাদিক, শিক্ষার্থী ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। বক্তারা সবাই একমত পোষণ করেন যে, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেবল প্রশাসনের ওপর নির্ভর না করে সাধারণ জনগণকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
নবগঠিত “রামপাল সচেতন নাগরিক সমাজ” কমিটি ইতোমধ্যে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ট্রাফিক আইন মেনে চলার প্রচার, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ উদ্যোগ রামপাল উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য করুন