
গাজীপুর-১ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মোঃ মজিবুর রহমানকে বিজয়ী করায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের সম্মান জানাতে এক অভিনন্দন ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে কালিয়াকৈর উপজেলার কালিয়াকৈর গার্লস পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে এ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে কালিয়াকৈর উপজেলা ও পৌর বিএনপির সহযোগী সংগঠনসমূহ। এতে সভাপতিত্ব করেন কালিয়াকৈর হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের সাবেক সভাপতি বাবু অধ্যাপক চন্দ্র মোহন সরকার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির শ্রম বিষয়ক সহ-সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মোঃ মজিবুর রহমান। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন কালিয়াকৈর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক পারভেজ আহমেদ, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন অর রশিদ, জেলা জাসাসের আহ্বায়ক শাহ এরশাদ ফকির, বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ গাজীপুর জেলা শাখার সহ-সভাপতি বিপ্লব সরকার এবং সাধারণ সম্পাদক এস পলাশ সরকার।
অনুষ্ঠানে আরও অংশগ্রহণ করেন কালিয়াকৈর গার্লস পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুভাষ চন্দ্র সরকার, হিন্দু মহিলা নেত্রী সুচিত্রা সরকারসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপির বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আগত হিন্দু ধর্মালম্বী নেতাকর্মীরা।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এ বিজয় সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। ভবিষ্যতেও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।
প্রধান অতিথি হুমায়ুন কবির খান তার বক্তব্যে বলেন, “বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ। এখানে সকল ধর্মের মানুষ সমান অধিকার ভোগ করে। এই নির্বাচনেও তারই প্রতিফলন ঘটেছে।” তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মোঃ মজিবুর রহমান তার বক্তব্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “আপনাদের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিদান দিতে আমি সবসময় কাজ করে যাব। এই আসনের সার্বিক উন্নয়ন এবং সকল সম্প্রদায়ের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করাই আমার প্রধান লক্ষ্য।”
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং তাদের অবদানের জন্য সম্মাননা প্রদান করা হয়। আয়োজনটি উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয় এবং এতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন উপস্থিত অতিথিরা।
মন্তব্য করুন