
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার কালিয়াকৈর সরকারি কলেজ-এর তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা। রবিবার (২৯ মার্চ ২০২৬) সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা এলাকায় অবস্থিত কলেজের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি কলেজের আওতাধীন একটি জমিতে মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ। তবে স্থানীয়ভাবে ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত আকতার হোসেন ওকল এবং খাটা মজিবুর রহমান ওই জমির মালিকানা দাবি করে নির্মাণকাজে বাধা দেন। একপর্যায়ে তারা আদালতে গিয়ে কলেজের তিনজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন, যা শিক্ষক-শিক্ষার্থী মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এ মামলাকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক বলে উল্লেখ করেন। তাদের দাবি, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নমূলক কাজকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে পরিকল্পিতভাবে এই মামলা করা হয়েছে।
মানববন্ধন শেষে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কলেজের শিক্ষক সেলিম জাহান, মেহেরুন্নেসা মিনু ও রেজাউল করিম। তারা বলেন, “শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এই মিথ্যা মামলা শুধু ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বরং পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর আঘাত।” তারা দ্রুত মামলা প্রত্যাহারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান।
শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন মোহাম্মদ শামীম হোসেন ও পূর্ণিমা সিদ্ধা। তারা বলেন, “আমাদের শিক্ষকদের সম্মান রক্ষার জন্য আমরা ঐক্যবদ্ধ। অন্যায়ভাবে করা এই মামলা প্রত্যাহার না হলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।”
কর্মসূচিতে কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো এলাকা প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে। মানববন্ধন চলাকালে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার প্রদর্শন করেন, যেখানে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে নানা স্লোগান লেখা ছিল।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বিষয়টির সমাধান করা হবে।
উল্লেখ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে এবং উন্নয়নমূলক কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বয় জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
মন্তব্য করুন