
নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদীতে মোটরসাইকেল ও পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনায় পিকআপ ভ্যানের চালকও গুরুতর আহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে নোয়াখালী সদর উপজেলার মাইজদী শহরের চার লেন সড়কে, সদর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত দুই তরুণ হলেন— সদর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা উমেশ কুমার ভৌমিকের ছেলে অভি দেব নাথ (২৩) এবং একই গ্রামের কানু চন্দ্র শীলের ছেলে হৃদয় চন্দ্র শীল (২২)। তারা দুজনেই পরস্পরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ এলাকা থেকে মোটরসাইকেলযোগে নিজ বাড়ি ফিরছিলেন অভি ও হৃদয়। পথে রাত সোয়া ১টার দিকে তারা মাইজদী-চৌমুহনী সড়কের সদর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে হঠাৎ করে একটি মুরগিবাহী পিকআপ ভ্যান ইউটার্ন নেয়। এ সময় মাইজদী অভিমুখী মোটরসাইকেলের সঙ্গে পিকআপ ভ্যানটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে মোটরসাইকেলে থাকা দুই আরোহী ও পিকআপ ভ্যানের চালক গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক অভি দেব নাথকে মৃত ঘোষণা করেন।
অপরদিকে, পিকআপ ভ্যানের পরিচয়হীন চালক ও মোটরসাইকেল আরোহী হৃদয় চন্দ্র শীলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে হৃদয় চন্দ্র শীলও মৃত্যুবরণ করেন।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের মাঝে শোকের মাতম শুরু হয়। এলাকাবাসী জানান, দুই তরুণের এমন অকাল মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না।
এ বিষয়ে সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাস্থল থেকে দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেল ও পিকআপ ভ্যান জব্দ করে থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি সড়কে বেপরোয়া ইউটার্ন ও যানবাহনের গতির বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে।
মন্তব্য করুন