
চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জেলা হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে তিল ধারণের জায়গা নেই; মেঝে, বারান্দা এমনকি সিঁড়ির নিচে গাদাগাদি করে চলছে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা। গত তিন মাসে হাসপাতালটিতে হামে আক্রান্ত হয়ে চার শিশুর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে গত ১৫ থেকে ২৭ মার্চের মধ্যে ১৩০ জন হাম আক্রান্ত শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৭ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে। রোগীর চাপ সামলাতে কিডনি ডায়ালসিস ওয়ার্ডকে অস্থায়ী আইসোলেশন ওয়ার্ড বানানো হলেও সেখানে জায়গার সংকুলান হচ্ছে না। আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগই নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছে, কিন্তু সংকটাপন্ন শিশুদের জন্য হাসপাতালে কোনো আইসিইউ সুবিধা নেই।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ায় চিকিৎসক ও নার্সরা হিমশিম খাচ্ছেন। সংক্রমণ রোধে পুরাতন ভবনের তৃতীয় তলায় আলাদা ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলা হাসপাতালের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ মাহফুজ রায়হান জানান, মৃত চার শিশুই মূলত টিকা না নেওয়া বা রোগ শনাক্তে বিলম্বের কারণে মারা গেছে। তিনি ৯ ও ১৫ মাস বয়সে হাম-রুবেলার দুটি ডোজ সম্পন্ন করার ওপর জোর দিয়েছেন।
সিভিল সার্জন ডা. একেএম শাহাব উদ্দিন জানান, নিয়ম অনুযায়ী ২০২৪ সালে হাম প্রতিরোধের বিশেষ ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা থাকলেও তা সম্পন্ন হয়নি। তবে আগামী এপ্রিল বা মে মাসে এই ক্যাম্পেইন শুরু হতে পারে। বর্তমানে স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে রোগী শনাক্ত ও সচেতনতার কাজ করছেন।
চিকিৎসা নিতে আসা অভিভাবকরা জানান, ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় তারা চরম আতঙ্কে আছেন। হাসপাতালের ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি রোগী থাকায় এক শিশু থেকে অন্য শিশুর মাঝে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আরও বাড়ছে। চিকিৎসকরা শিশুদের ভিড় এড়িয়ে চলা এবং আক্রান্ত হলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
মন্তব্য করুন