
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের সন্তোষপুর নয়ারেরপাড়া গ্রামে গত শুক্রবার রাতের কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ১০টি পরিবারের বসতঘর ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিলার আঘাতে ঘরের টিনের চালায় অসংখ্য ফুটো সৃষ্টি হয়েছে, কোথাও কোথাও চালা উড়ে পাশের জমিতে গিয়ে পড়েছে। অর্থাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ঘর মেরামত করতে না পেরে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
সোমবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের বেশ কয়েকটি ঘরের টিন ঝাঁঝরা হয়ে গেছে। কোথাও পলিথিন টানিয়ে, কোথাও পুরোনো কাপড় দিয়ে কোনো রকমে বৃষ্টির পানি ঠেকানোর চেষ্টা করছেন বাসিন্দারা। শনিবার গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হলে ফুটো চাল দিয়ে ঘরে পানি পড়তে থাকে।
দিনমজুর আবদুল জব্বার নিজের বাড়ির সামনে বসে আক্ষেপ করে বলেন, তার দুটি ঘরের চালই শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাঁচ সদস্যের পরিবার নিয়ে তিনি চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। প্রতিদিনের খাবার জোগাড় করতেই হিমশিম খেতে হয়, নতুন টিন কেনার সামর্থ্য নেই। সরকারি সহায়তা ছাড়া ঘর মেরামত করা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।
স্বামীহারা আহেলা বেগম বলেন, একমাত্র ঘরটির চালও শিলার আঘাতে ফুটো হয়ে গেছে। সন্তানদের নিয়ে এখন তিনি আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। নতুন টিন কেনার মতো আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় তিনি সরকারের সহায়তা চেয়েছেন।
একই গ্রামের ফেরদৌসী বেগম জানান, তার ঘরের টিনে অসংখ্য ফুটো হয়ে গেছে। টিন কিনতে না পেরে তিনি পলিথিন দিয়ে চাল ঢেকে রেখেছেন। তবে এতে বৃষ্টির পানি পুরোপুরি ঠেকানো যাচ্ছে না।
শুধু বসতঘর নয়, গ্রামের একমাত্র আধাপাকা মসজিদটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মসজিদের ভেতর ও বাইরের টিনে অনেক ফুটো হয়ে গেছে। বৃষ্টি হলেই ছাদ দিয়ে পানি পড়ে, তবুও কষ্ট করে নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য হেলাল মিয়া বলেন, নয়ারেরপাড়ার অধিকাংশ পরিবারই হতদরিদ্র। ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে অন্তত ১০টি পরিবারের ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের জন্য সরকারি সহায়তার আবেদন করার প্রক্রিয়া চলছে।
এ বিষয়ে বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আঞ্জুয়ারা সুলতানা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে সরকারি সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
মন্তব্য করুন