
নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় জনবহুল এলাকায় বোমা সদৃশ্য একটি বস্তুর বিস্ফোরণে চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (তারিখ অনুযায়ী) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার ছোট কালিয়া তেমাথা মোড়ে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। হঠাৎ বিস্ফোরণের ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দেয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আহত শিক্ষার্থীর নাম আলিফ শেখ (১০)। সে কালিয়া উপজেলার একটি স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। ঘটনার সময় আলিফ বিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকায় খেলাধুলা করছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তেমাথা মোড় এলাকায় একটি পরিত্যক্ত ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখে কৌতূহলবশত আলিফ সেটি নাড়াচাড়া করে। এ সময় হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আলিফ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এবং তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে।
বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের দোকানি ও পথচারীরা আতঙ্কিত হয়ে ছুটে আসেন। স্থানীয়রা দ্রুত আহত আলিফকে উদ্ধার করে কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা জানান, তার শরীরের একাধিক স্থানে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে এবং তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে যশোর বা খুলনায় পাঠানো হতে পারে বলেও জানান চিকিৎসকরা।
খবর পেয়ে কালিয়া থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। নিরাপত্তার স্বার্থে তেমাথা মোড় এলাকা ঘিরে রাখা হয় এবং সাধারণ মানুষের চলাচল সাময়িকভাবে সীমিত করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরণের কিছু আলামত সংগ্রহ করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। বিস্ফোরিত বস্তুটি আসলেই বোমা, নাকি অন্য কোনো বিস্ফোরক বা ক্ষতিকর বস্তু—তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
কালিয়া থানার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কে বা কারা, কী উদ্দেশ্যে জনবহুল এলাকায় এমন একটি বিপজ্জনক বস্তু রেখে গেছে—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহসহ আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এখনো পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, জনবহুল এলাকায় এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ বস্তু পড়ে থাকা অত্যন্ত ভয়াবহ এবং এটি শিশুদের জন্য মারাত্মক হুমকি। তারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সচেতন মহল মনে করছেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিত্যক্ত বা সন্দেহজনক কোনো বস্তু দেখলে সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনকে জানানোর বিষয়ে সবাইকে আরও সতর্ক হতে হবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত নজরদারি ও টহল জোরদার করারও দাবি উঠেছে।
এদিকে বিস্ফোরণের ঘটনায় পুরো কালিয়া উপজেলাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ করেছে।
মন্তব্য করুন