
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় অবৈধভাবে মজুদ করে রাখা ২ হাজার ৩২০ লিটার ডিজেল জব্দ করেছে প্রশাসন। পৃথক অভিযানে দুই ব্যবসায়ীকে মোট ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পরে জব্দ করা ডিজেল সরকারি মূল্যে উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়।
বুধবার (১ এপ্রিল) গভীর রাতে উপজেলার উত্তর শিয়ালকাঠী ইউনিয়নের ফকির বাড়ির মোড় ও বানচারাম খাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব ডিজেল জব্দ করা হয়।
পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথমে উত্তর শিয়ালকাঠী ফকির বাড়ির মোড় এলাকায় তানভির এন্টারপ্রাইজ নামের একটি গুদামঘরে অভিযান চালানো হয়। সেখানে ৯৫০ লিটার ডিজেল মজুদ অবস্থায় পাওয়া যায়।
অভিযানকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) উজ্জল হালদার এবং ভাণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেওয়ান জগলুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় গুদামের মালিক সিদ্দিক হাওলাদার জব্দ করা তেলের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং তেল জব্দ করা হয়।
একই দিন দুপুরে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে উত্তর শিয়ালকাঠী গ্রামের বানচারাম খাল সংলগ্ন সিদ্দিক মিরা-র বাড়ির উঠানে আরেকটি অভিযান চালানো হয়। সেখানে আরও ১ হাজার ৩৭০ লিটার ডিজেল পাওয়া যায়।
তবে সিদ্দিক মিরাও তেল মজুদের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। এ কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
পরে বুধবার সকাল ১১টা এবং বিকেল ৫টায় জব্দ করা ২ হাজার ৩২০ লিটার ডিজেল সরকারি নির্ধারিত মূল্য প্রতি লিটার ৯৬ টাকা ৩৯ পয়সা দরে উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। নিলামে অংশ নিয়ে বায়জিদ এন্টারপ্রাইজ ও ফয়সাল এন্টারপ্রাইজ তেলগুলো কিনে নেয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) উজ্জল হালদার বলেন, অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। যারা এ ধরনের কাজের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে।
এদিকে একই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বার্ত ভবন সংলগ্ন খান এন্টারপ্রাইজ-এ অভিযান চালিয়ে মূল্য তালিকা না টানানো এবং নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রির অভিযোগে ব্যবসায়ী রিপন খান-কে আরও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
মন্তব্য করুন