
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘর তোলাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজেরাই খড়ের গাদায় আগুন দিয়েছেন—এমন অভিযোগও উঠেছে এক পক্ষের বিরুদ্ধে।
সোমবার সকালে উপজেলার খাউলিয়া ইউনিয়নের নিশানবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে মঙ্গলবার এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিশানবাড়িয়া গ্রামের হাফেজ আব্দুল করিম ও দেলোয়ার মোল্লা-র মধ্যে বসতবাড়ির ১৪ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সোমবার সকালে দেলোয়ার মোল্লা বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘর তোলার কাজ শুরু করেন। এ সময় আব্দুল করিম ও তার লোকজন বাধা দিতে গেলে দু’পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বেঁধে যায়।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫ জন আহত হন। আহতরা হলেন ইদ্রিস মীর (৪০), দেলোয়ার মোল্লা (৫৫), শাহ আলম তালুকদার, শোয়াইব বিল্লাহ (২০)সহ আরও একজন। তাদের মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার পর নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়, যখন একটি পক্ষ অভিযোগ তোলে যে প্রতিপক্ষ নিজেদের খড়ের গাদায় নিজেরাই আগুন লাগিয়ে তাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করেছে।
হাফেজ আব্দুল করিম বলেন, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে দেলোয়ার মোল্লা জমিতে কাজ করছিল। আমরা বাধা দিলে আমাদের ওপর হামলা করা হয়। এতে আমাদের তিনজন আহত হয়েছে। পরে আমাদের ফাঁসাতে তারা নিজেরাই নিজেদের খড়ের গাদায় আগুন দিয়েছে। এটা খুবই ন্যক্কারজনক ঘটনা।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দেলোয়ার মোল্লা। তিনি বলেন, আমার কোনো লোক খড়ের গাদায় আগুন দেয়নি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে। বরং আব্দুল করিম ভাড়াটিয়া লোক এনে আমাদের ওপর হামলা করেছে।
এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, “ঘটনার বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন