
সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাগেরহাটের ফকিরহাটে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘সম্প্রীতির অলিম্পিয়াড’ শীর্ষক কুইজ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।
মঙ্গলবার উপজেলার মূলঘর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ আয়োজন করে ফকিরহাট ইয়ুথ পিস অ্যাম্বাসেডর গ্রুপ।
তরুণদের সামাজিক সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও নাগরিক দায়িত্ববোধ সম্পর্কে সচেতন করে তুলতেই এ আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় বিদ্যালয়ের অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। কুইজে শান্তি, সামাজিক সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও নাগরিক দায়িত্ববোধ বিষয়ক প্রশ্ন রাখা হয়। বহুনির্বাচনী পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের উত্তর গ্রহণ করা হয়।
অনুষ্ঠানটি বাস্তবায়ন করে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ-এর “মাল্টি স্টেকহোল্ডার ইনিশিয়েটিভ ফর পিস অ্যান্ড স্ট্যাবিলিটি (এমআইপিএস)” প্রকল্প। প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে এফসিডিও-এর অর্থায়নে। এ প্রকল্পের লক্ষ্য তরুণদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি তৈরি, সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মানসিকতা গড়ে তোলা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইফতেখার আহমেদ পলাশ। তিনি বলেন, “তরুণদের সচেতনতা ও মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এমন উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাসুদুর রহমান বলেন, “বর্তমান সময়ে বিভেদ নয়, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির চর্চাই একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের মূল ভিত্তি। তরুণদের ইতিবাচক শক্তিতে রূপান্তর করতে হলে এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিত চালিয়ে যেতে হবে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুন্সী শাহারিয়ার হাচান। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান নয়, মানবিক মূল্যবোধ, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ অর্জনই একজন সত্যিকারের শিক্ষার্থীর পরিচয়। এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মনন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি আরও বলেন, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ ও ফকিরহাট ইয়ুথ পিস অ্যাম্বাসেডর গ্রুপ-এর এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা একটি সুন্দর ও সম্প্রীতিময় সমাজ গঠনে উদ্বুদ্ধ হবে।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শেখ সাবিতুল ইসলাম সাগর। শেষে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
আয়োজকরা জানান, তরুণদের মধ্যে সচেতনতা, সহনশীলতা ও সামাজিক বন্ধন জোরদারে ‘সম্প্রীতির অলিম্পিয়াড’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ ধরনের আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্তব্য করুন