
ভোলা জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করেছে, যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে পরিবহন সংশ্লিষ্ট কর্মজীবী ও কৃষকরা। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও প্রয়োজনীয় তেল না পেয়ে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে অনেককে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইনের চিত্র এখন জেলার প্রায় সব ফিলিং স্টেশনেই দেখা যাচ্ছে।
জানা গেছে, গত দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে এ সংকট চলমান রয়েছে। জেলার মাত্র ছয়টি ফিলিং স্টেশনের ওপর পুরো এলাকার জ্বালানি সরবরাহ নির্ভরশীল হলেও ডিপো থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল সরবরাহ না পাওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠেছে। দৈনিক প্রায় ৫০ হাজার লিটার তেলের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ হচ্ছে তার অর্ধেকেরও কম।
ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ডিপো থেকে পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় তারা চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করতে পারছেন না। এরহমান এন্ড সন্সের ব্যবস্থাপক জহির ও আরিফ বলেন, “আমরা যে পরিমাণ তেল পাচ্ছি, তা দিয়ে সবার চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।” অন্যদিকে মা, শা আল্লাহ ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক জাহিদুল হক শুভ মিয়া জানান, “ডিপো থেকে ৪ থেকে ৫ হাজার লিটার তেল সংগ্রহ করে বিক্রি করছি। আমরা কাউকে ফেরাতে চাই না, তবে সরবরাহ সীমিত হওয়ায় বাধ্য হচ্ছি।”
বর্তমানে জরুরি সেবা ব্যতীত অন্যান্য পরিবহনে তেল বিক্রি সীমিত করা হয়েছে। প্রতিদিন একজন বাইকারকে ২০০ টাকারও কম তেল দেওয়া হচ্ছে, আর প্রাইভেটকারের ক্ষেত্রেও বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রয়োজন মেটাতে না পেরে অনেকেই হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
এদিকে খুচরা বাজারে গত পাঁচ দিন ধরে তেল বিক্রি বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। কর্মজীবী মানুষদের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দিনমজুর ও শ্রমিকরা। ভোলা সদরের মেঘনা ব্রিকসের শ্রমিকরা জানান, ডিজেলের অভাবে গত এক সপ্তাহ ধরে তাদের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে, ফলে অনেক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। এতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন তারা।
কৃষি খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সেচ পাম্প ও স্যালো মেশিন চালাতে না পারায় সময়মতো জমিতে পানি দিতে পারছেন না কৃষকরা। এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অপ্রিয় ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী হেলমেট, গাড়ির বৈধ কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখিয়ে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
তবে ভোক্তাদের অভিযোগ, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী খুচরা বাজারে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি করে মুনাফা লুটছেন। এতে সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে বলে তারা মনে করছেন।
জেলার সাধারণ মানুষের একটাই প্রশ্ন—কবে নাগাদ এই সংকটের সমাধান হবে, আর স্বাভাবিক হবে জ্বালানি সরবরাহ।
মন্তব্য করুন