
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় কৃষকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও পুষ্টিসমৃদ্ধ ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে “ফসলের অনুপুষ্টি ব্যবস্থাপনা” বিষয়ক একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ইসলামপুর মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
প্রশিক্ষণে কৃষি খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, মাটির উর্বরতা বজায় রাখা এবং ফসলের সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করার বিভিন্ন কৌশল বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে মাটির স্বাস্থ্য উন্নয়ন, সঠিক সার ব্যবস্থাপনা, মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের গুরুত্ব এবং পুষ্টিসমৃদ্ধ কৃষি উৎপাদনের আধুনিক পদ্ধতি নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের হাতে-কলমে ধারণা দেওয়া হয়।
কর্মসূচিটি ‘জেন্ডার ইনক্লুসিভ মার্কেট সিস্টেমস ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন (GESMIN)’ প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত হয়। অস্ট্রেলিয়ান সরকারের সহায়তায় এবং অস্ট্রেলিয়ান এনজিও কো-অপারেশন প্রোগ্রাম (ANCP)-এর মাধ্যমে পরিচালিত এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো কৃষিতে পুষ্টি সংযোজন এবং বাজার ব্যবস্থাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা।
প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলার মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ.কে.এম মোর্শেদুর রহমান। তিনি বলেন, “বর্তমান সময়ে শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না, সেই উৎপাদনকে পুষ্টিসমৃদ্ধ করাও জরুরি। এজন্য সঠিক পুষ্টি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামপুর উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল এবং উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মৌরি তানিয়া মৌ। তারা কৃষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, সঠিক পদ্ধতিতে সার প্রয়োগ এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি করার পাশাপাশি ফসলের গুণগত মান উন্নয়ন সম্ভব।
এছাড়া জেসমিন প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী বিজন কুমার দেব প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন এবং কৃষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। প্রশিক্ষণটি পরিচালনা করেন জেসমিন প্রকল্পের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অফিসার মো. খলিল উল্লাহ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অফিসার রবিউল আউয়াল ও আবিদ হাসানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী কৃষকরা জানান, তারা নতুন অনেক তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন, যা মাঠপর্যায়ে প্রয়োগ করে ফসলের উৎপাদন ও পুষ্টিগুণ বাড়াতে সহায়ক হবে।
বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধি করবে, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করবে এবং স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য করুন