
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন বলেছেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে রাজশাহী মহানগরীকে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলা হবে। তিনি নগরবাসীর জন্য কার্যকর ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে বলেন, উন্নয়ন কাজের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি গুণগত মান বজায় রাখা হবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
বৃহস্পতিবার নগর ভবনের সরিৎ দত্তগুপ্ত নগর সভাকক্ষে আয়োজিত রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভার আয়োজন করে রাসিকের প্রকৌশল বিভাগ।
প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন তার বক্তব্যে বলেন, রাজশাহী একটি পরিচ্ছন্ন ও শান্ত নগরী হিসেবে পরিচিত। এই সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি করতে হলে পরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন জরুরি। তিনি জানান, সরকারের নির্দেশনা ও আইন মেনে নগরবাসীর সহযোগিতায় রাজশাহীকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “নাগরিক সেবাই আমাদের মূল দায়িত্ব। আমরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। দলমত নির্বিশেষে সবার জন্য সমানভাবে সেবা নিশ্চিত করতে হবে। প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে, যাতে প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়ে।”
নগরীর অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৩০টি ওয়ার্ডে নতুন রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশনা দেন তিনি। বিশেষ করে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নির্ধারিত কাজগুলো শেষ করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
সভায় প্রশাসক অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি কাজের মান নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, উন্নয়ন কাজের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাশত করা হবে না। প্রতিটি প্রকল্প নির্ধারিত মান বজায় রেখে বাস্তবায়ন করতে হবে এবং কাজের গতি আরও বাড়াতে হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম। সভায় চলমান উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আহমদ আল মঈন পরাগ।
এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন রাসিকের সচিব সোহেল রানা, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের, নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান ইমন, নিলুফার ইয়াসমিন, এবিএম আসাদুজ্জামানসহ প্রকৌশল বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারা।
মতবিনিময় সভায় উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
মন্তব্য করুন