
নোয়াখালীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, যারা ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ অস্বীকার করে এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করতে চায়, তাদের এই দেশে রাজনীতি করার কোনো নৈতিক অধিকার থাকা উচিত নয়।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে নোয়াখালীর মাইজদী হাউজিং বালুর মাঠে অনুষ্ঠিত নোয়াখালী শিল্প ও বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসন, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
বরকত উল্লাহ বুলু তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুধুমাত্র একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, বরং এটি বাঙালি জাতির আত্মপরিচয় ও স্বাধীনতার প্রতীক। এই মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ এবং প্রায় দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। তাই এই ইতিহাস অস্বীকার করা মানে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতির আত্মমর্যাদাকে অস্বীকার করা।
তিনি আরও বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অস্বীকার করে, তারা মূলত দেশের অস্তিত্বের বিরোধিতা করে। এ ধরনের ব্যক্তি বা গোষ্ঠী দেশের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার সুযোগ পেলে তা জাতীয় স্বার্থের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু অসাধু মহল গ্রামগঞ্জের সাধারণ মানুষকে ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বিভ্রান্ত করছে। বিশেষ করে প্রান্তিক এলাকার মানুষদের কাছে “বেহেশতের টিকেট” বিক্রির মতো ভ্রান্ত ধারণা ছড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসলাম ধর্মে এমন কোনো ধারণার স্থান নেই।
তার ভাষায়, “বেহেশতের টিকেট কেউ বিক্রি করতে পারে না। মানুষের পরকাল নির্ভর করে তার আমল, ইমান-আকিদা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির ওপর।” তিনি ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার প্রবণতাকে কঠোরভাবে নিন্দা করেন এবং বলেন, এটি ইসলাম ধর্মের প্রকৃত শিক্ষার পরিপন্থী।
বরকত উল্লাহ বুলু সাধারণ মানুষকে এ ধরনের বিভ্রান্তি থেকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ধর্মের নামে অপপ্রচার চালিয়ে যারা মানুষের ঈমান নিয়ে খেলছে, তারা সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করছে এবং ইসলামকে ভুলভাবে উপস্থাপন করছে। আল্লাহ একদিন তাদের বিচার করবেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. সরওয়ার উদ্দিন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লিয়াকত আকবর। এছাড়া নোয়াখালী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি ফিরোজ আলম মতিন মেলার উদ্বোধন করেন।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি ছিল দেশপ্রেম, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের সঠিক ব্যাখ্যা তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম, যেখানে জাতীয় ঐক্য ও সচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
মন্তব্য করুন