
নাটোরের নলডাঙ্গায় মূলধারার সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক ইনকিলাবের সংবাদদাতা এম. জহুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, সাংবাদিক সমাজে বিভাজন নয়, বরং ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগই একটি শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে পারে।
বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে নলডাঙ্গা উপজেলা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এক মতবিনিময় ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম ডাবলুর আহ্বানে “নলডাঙ্গা সাংবাদিক ঐক্য পরিষদ” গঠন উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় তিনি নতুন নামে একটি সংগঠন গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
তবে আলোচনায় উঠে আসে, উপজেলায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন সাংবাদিক কর্মরত থাকলেও সভায় উপস্থিত ছিলেন খুব অল্পসংখ্যক প্রতিনিধি। উপজেলা প্রেসক্লাবের মাত্র চারজন সদস্যসহ বিভিন্ন সংগঠনের ৬ থেকে ৭ জন সাংবাদিক উপস্থিত থাকায় নতুন সংগঠনের মাধ্যমে প্রকৃত ঐক্য প্রতিষ্ঠা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। উপস্থিত সাংবাদিকরা মত দেন, অধিকাংশ মূলধারার সাংবাদিকের অংশগ্রহণ ছাড়া নতুন কোনো সংগঠন গঠন বাস্তবসম্মত নয়।
এ প্রেক্ষাপটে উপজেলা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত ও জনআস্থার প্রতীক এই সংগঠনের সাথে যুক্ত হয়ে সকল সাংবাদিককে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, বিদ্যমান শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মকে পাশ কাটিয়ে নতুন নতুন সংগঠন তৈরি করলে বিভাজন আরও বাড়বে, যা সাংবাদিক সমাজের জন্য ক্ষতিকর।
সভাপতি এম. জহুরুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, “একটি সংগঠনের মূল ভিত্তি হলো সক্রিয় সদস্য ও নিজস্ব কার্যালয়। শুধুমাত্র কাগজে-কলমে কমিটি গঠন করলে তা বাস্তবে কোনো কার্যকারিতা বা গ্রহণযোগ্যতা পায় না।” তিনি আরও বলেন, নলডাঙ্গায় ইতোমধ্যে কার্যালয়বিহীন বিভিন্ন নামে ‘পকেট কমিটি’ বা ‘ব্যাগবন্দী কমিটি’ গড়ে উঠেছে, যা সাংবাদিকদের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত বিভাজন সৃষ্টি করছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, একটি কার্যকর ও টেকসই সংগঠন গড়ে তুলতে হলে প্রয়োজন ত্যাগ, শ্রম, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং আর্থিক সহযোগিতা। “সংগঠন একাধিক থাকতে পারে, কিন্তু মূলধারার সাংবাদিকদের ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই”—এ কথা উল্লেখ করে তিনি সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ হোসেন জুয়েল, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রাসেল শেখ, সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলামসহ স্থানীয় সাংবাদিক ফজলে রাব্বি, মোস্তাফিজুর রহমান, রাশেদ আলম, হুমায়ূন রশীদ, সান্টু ইসলাম ও সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।
সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা নলডাঙ্গায় সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য, পেশাদারিত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মন্তব্য করুন