
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে পাটবীজ ও আউশ ধানের প্রণোদনা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, এমপি। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের সূচনা করেন।
মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত প্রায় ১৮শ কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে পাটবীজ ও আউশ চাষের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ বিতরণ করা হয়। এতে হতদরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হয়েছেন।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম কৃষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “বর্তমান সরকার কৃষি খাতকে আরও শক্তিশালী করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কৃষকদের উৎপাদনে উৎসাহিত করতে বিনামূল্যে বীজ, সারসহ বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।” তিনি বলেন, দেশের কৃষি উন্নয়নে অতীতের সফল উদ্যোগগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বর্তমান সরকারও বিভিন্ন বাস্তবমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে কৃষিতে যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিলেন, বর্তমান সরকারও সেই ধারা অনুসরণ করে কৃষির উন্নয়নে কাজ করছে।” প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা আগামী পহেলা বৈশাখ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
পাট চাষের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “পাট আমাদের ঐতিহ্যবাহী অর্থকরী ফসল। পাট চাষিদের উন্নয়নে সরকার উন্নতমানের বীজ সরবরাহসহ বিভিন্ন সহায়তা অব্যাহত রাখবে।” তিনি কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠান শেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই এবং আগামী তিন থেকে চার মাসের জন্য পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লেও সরকার সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে এখনো ভর্তুকি প্রদান করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, কিছু মোটরসাইকেল ব্যবহারকারী অপ্রয়োজনীয় মজুদ ও অতিরিক্ত ব্যবহারের মাধ্যমে বাজারে সাময়িক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে।
পরে প্রতিমন্ত্রী উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে কালী নদীতে কচুরিপানা অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। নৌ-যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখতে এ কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এছাড়া কুলিয়ারচর বাজার লঞ্চঘাট এলাকায় একটি নতুন জেটি নির্মাণের সম্ভাব্য স্থানও তিনি পরিদর্শন করেন। একইসঙ্গে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইয়াসিন খন্দকার, সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মোহাম্মদ ফয়জুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. শাহদাত হোসেন শাহ্ আলম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আদনান আখতার, থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী আরিফ উদ্দিন এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মর্জিনা আক্তারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
মন্তব্য করুন