
বাগেরহাটে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ৫৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে। নারী অধিকার, সমতা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশ নেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সদস্য এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বাগেরহাট কার্যালয়ের সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচির সূচনা করা হয়। এ সময় নারী নেত্রীরা একযোগে দেশের উন্নয়ন ও নারী ক্ষমতায়নে নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
পরে কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালী বের করা হয়। র্যালীটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সংগঠনের কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। র্যালীতে অংশগ্রহণকারীরা নারী অধিকার, সমতা এবং সহিংসতা প্রতিরোধের বিভিন্ন স্লোগান দেন, যা উপস্থিত জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সনাক বাগেরহাটের সভাপতি চৌধুরী আব্দুর রব, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বাগেরহাট শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পিয়ারা আক্তার, সাধারণ সম্পাদক রিজিয়া পারভীন, সহ-সভাপতি জাহানারা খানম, তহমিনা মিনু ও জোছনা দেবনাথ। এছাড়া বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা শাপলাফুলের নির্বাহী পরিচালক রেহানা পারভীন লাকি এবং নারী নেত্রী আবিদা খাতুনসহ মহিলা পরিষদের অন্যান্য সদস্যরাও এতে অংশগ্রহণ করেন।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘ ৫৬ বছর ধরে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দেশের নারী সমাজের অধিকার প্রতিষ্ঠা, বৈষম্য দূরীকরণ এবং নারী-পুরুষ সমতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। সংগঠনটি নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, আইনি সহায়তা প্রদান এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তারা আরও বলেন, বর্তমান সময়ে নারীর ক্ষমতায়ন ও অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেলেও এখনও নানা ক্ষেত্রে বৈষম্য বিদ্যমান। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে মহিলা পরিষদের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
আয়োজকরা জানান, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ভবিষ্যতেও বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে, যাতে সমাজে নারীর মর্যাদা ও অধিকার আরও সুদৃঢ় হয়।
উদযাপন ঘিরে বাগেরহাট শহরে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে এবং নারী অধিকার বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন