
পটুয়াখালীর মহিপুরে অভিযান চালিয়ে ১২ কেজি গাঁজাসহ চারজন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দিবাগত ভোররাতে মহিপুর থানাধীন পুরান মহিপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহিপুর থানা পুলিশের একটি দল ভোর আনুমানিক ৩টা ৪৫ মিনিটে হাজিপুর টোল প্লাজার উত্তর পাশে আব্দুল সালামের চায়ের দোকানের সামনের সড়কে অবস্থান নেয়। পরে সন্দেহভাজন চারজনকে আটক করে তল্লাশি চালানো হলে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মোঃ রফিক হাওলাদার (৪২) ও মোঃ কুদ্দুস হাওলাদার (৩৫)। তারা দুজনই মহিপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিপিনপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং তাদের পিতা মৃত হাসেম হাওলাদার। এছাড়া শাহ আলম (২০) ও মোসাঃ শারমিন বেগম (১৯), উভয়ের পিতা মৃত আলম গাজী; তাদের বাড়ি কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের নওয়াপাড়া গ্রামে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) সজল সাহা। তার সঙ্গে ছিলেন এসআই সামসুল ইসলাম, এসআই মাসুদ খান এবং এএসআই তারিকুল ইসলামসহ পুলিশের একটি দল। অভিযানের সময় গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে আনুমানিক ১২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রফিক হাওলাদার দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে পূর্বে সাতটি মামলা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অন্যদের বিরুদ্ধেও মাদক সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে জড়িত থাকার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে মহিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাব্বত খান বলেন, “মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ৩৬(১) ১৯(খ) ধারায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান কঠোর। নিয়মিত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে মাদক কারবারিদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় সচেতন মহল পুলিশের এ ধরনের অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তারা মনে করছেন, ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালানো হলে এলাকায় মাদকের বিস্তার কমে আসবে এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহ প্রভাব থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, মহিপুরসহ উপকূলীয় অঞ্চলে মাদক পাচার রোধে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে এবং মাদক নির্মূলে সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন