
দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সফিউল ইসলামকে (৩৯) বিয়ের প্রলোভনে এক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন, প্রতারণা ও ধর্ষণের অভিযোগে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস চত্বর থেকে তাকে আটক করা হয়। আটককৃত ডা. সফিউল ইসলাম রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার জারুল্যা গ্রামের আতিয়ার রহমানের ছেলে এবং বর্তমানে হাকিমপুরে ভেটেরিনারি সার্জন হিসেবে কর্মরত।
ভুক্তভোগী নারীর লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসার সূত্র ধরে অভিযুক্ত কর্মকর্তার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরবর্তী সময়ে হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারের মাধ্যমে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। অভিযোগ করা হয়, ডা. সফিউল বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময় নিজ সরকারি কোয়ার্টারে ওই নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং তাকে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের জন্য চাপ প্রয়োগ করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তের চাপে গত ৫ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে ভুক্তভোগী তার স্বামীকে তালাক দেন। এরপর ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। তবে বিয়ের মাত্র কয়েকদিনের মাথায় গত ১০ ফেব্রুয়ারি অভিযুক্ত কর্মকর্তা গোপনে তাকে তালাক প্রদান করেন, যা ভুক্তভোগী ১৬ ফেব্রুয়ারি পোস্ট অফিসের নোটিশের মাধ্যমে জানতে পারেন। সর্বশেষ গত শুক্রবার সকালে পুনরায় বিয়ের আশ্বাস দিয়ে অফিসে ডেকে নিয়ে ওই নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ ওঠে।
হাকিমপুর থানার উপ-পরিদর্শক মাহফুজার রহমান জানান, ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে আটক করে শনিবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, ভুক্তভোগী নারীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করছে।
মন্তব্য করুন