
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় যুবদল নেতা মো. সালমান খন্দকার হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। দীর্ঘ তদন্তের পর এ ঘটনায় জড়িত এক ভাড়াটে খুনিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি নয়ন ফকির ওরফে আশিক (২৬), তিনি উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের গন্ডব গ্রামের বাসিন্দা এবং করিম ফকিরের ছেলে।
লোহাগড়া থানা পুলিশ জানায়, শনিবার (৪ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে একটি বিশেষ অভিযানে গন্ডব গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) তারক বিশ্বাস, সঙ্গে ছিলেন পুলিশের একটি দল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৮ মে রাতে যুবদল নেতা সালমান খন্দকার তার কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে লোহাগড়া উপজেলার রামকান্তপুর এলাকায় মধুমতি নদীর তীরে পিকনিকে যান। সেদিন সন্ধ্যায় তিনি তার মাকে জানান যে, তিনি রাতে বাইরে খাবেন এবং পিকনিক শেষে বাসায় ফিরবেন। কিন্তু সেই রাতেই তিনি নিখোঁজ হন।
পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন ৯ মে সকালে উপজেলার শামুকখোলা গ্রামের কাউলিডাঙ্গা বিল থেকে সালমানের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার দুই দিন পর, ১১ মে নিহতের ভাই নাহিদ খন্দকার বাদী হয়ে লোহাগড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় থানা পুলিশ। তদন্তের শুরু থেকেই পুলিশ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে এবং সন্দেহভাজন কয়েকজনকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ চালায়।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং এতে ভাড়াটে খুনি ব্যবহার করা হয়েছে। এরই সূত্র ধরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে নয়ন ফকির ওরফে আশিককে গ্রেফতার করা হয়।
এ বিষয়ে লোহাগড়া থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, “সালমান খন্দকার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এক ভাড়াটে খুনিকে আমরা গ্রেফতার করেছি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, মামলার অন্যান্য জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল পরিকল্পনাকারীদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিকে, দীর্ঘদিন পর মামলার গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হওয়ায় নিহতের পরিবার কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছে। তারা দ্রুত বিচার এবং জড়িত সকল অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
মন্তব্য করুন