
ঢাকার সাভারে জমি দখল, প্রতারণা, হামলা ও মিথ্যা মামলার অভিযোগে অভিযুক্ত মোঃ ফারুক হোসেন (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে আমলে নিয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তার তদারকিতে গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে সাভারের বলিয়ারপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফারুক হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বনগাঁও ইউনিয়নের বলিয়ারপুর পাঁচ আনী এলাকার বাসিন্দা।
মামলার বাদী মোঃ আমির হামজা অভিযোগ করেন, তার ভাতিজা ফারুক হোসেন দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে তাদের পরিবারের ওপর নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। মিথ্যা মামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পরিবারটিকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয় বলেও তিনি জানান।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ফারুক হোসেন ও তার সহযোগীরা লাঠিসোঁটা ও লোহার রড নিয়ে আমির হামজার বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয় এবং তার পুত্রবধূ পিংকির ওপর শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে। হামলায় আহত হন তার ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন, ছোট ছেলে অভি, স্ত্রী শাহনাজ বেগম এবং কোলে থাকা শিশু জায়ান। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, পরিবারের সদস্যরা প্রাণভয়ে ঘরের ভেতরে আশ্রয় নিলে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে তাদের আটকে রাখা হয় এবং আগুন দিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
পরবর্তীতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
ভুক্তভোগী আমির হামজা আরও জানান, অভিযুক্ত ফারুক হোসেন দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করে আসছিলেন। বিভিন্ন সময় তদন্ত প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা এবং প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করার ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। নিরুপায় হয়ে তিনি পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ সুপার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিকে ফারুক হোসেনের গ্রেপ্তারে এলাকাবাসী স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও ভয়ের কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি। পুলিশের কার্যকর পদক্ষেপে অবশেষে একজন প্রভাবশালী অভিযুক্ত আইনের আওতায় এসেছে।
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও মারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানিয়েছে, দ্রুত বিচার নিশ্চিত হলে তারা নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারবে বলে আশা করছে।
মন্তব্য করুন