
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং হুমকি-ধামকির অভিযোগে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম তালুকদার ও তার পরিবারকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রফিকুল ইসলাম তালুকদার এক সময় বাউফল উপজেলা ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতা ছিলেন। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিনি রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে বিএনপির এমপি শহীদুল ইসলাম তালুকদারের আত্মীয় পরিচয়ে তার ঘনিষ্ঠ হন এবং পরবর্তীতে মদনপুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
পরবর্তীতে বিভিন্ন অনিয়ম, সরকারি চাল আত্মসাৎ ও লুটপাটের অভিযোগে তিনি যৌথবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করেন বলে জানা গেছে। এরপর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর আবারও রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে বাউফল পৌর আওয়ামী লীগের কমিটির সদস্য হিসেবে যোগ দেন। সে সময় আওয়ামী লীগের সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজের সঙ্গে দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখেন এবং দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে আবারও রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি বর্তমানে নিজেকে বিএনপির শহীদুল ইসলাম তালুকদারের আত্মীয় হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন এবং জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার ও বিআরডিবির সভাপতি পদে থাকার দাবিও করছেন।
এদিকে গত ১৮ মার্চ একটি অনলাইন মাধ্যমে তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অভিযোগ রয়েছে, ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর দুটি ফেসবুক আইডি থেকে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে অশালীন ভাষায় একাধিক মন্তব্য করা হয় এবং হুমকি দেওয়া হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই আইডি দুটি রফিকুল ইসলাম তালুকদারের বড় মেয়ে সানজিদা ইসলাম জেসমিনের বলে দাবি করা হচ্ছে। তিনি বাউফল পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে ডিজিটাল হাজিরা জালিয়াতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে তাকে সেখান থেকে অন্যত্র বদলি করা হয়।
তার বিরুদ্ধেও আর্থিক অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও অসদাচরণের অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি ৭৭ জনের স্বাক্ষরসহ এবং একই বছরের ২২ এপ্রিল ১২ জন কর্মচারীর স্বাক্ষরে তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগকারীরা দাবি করেন, তদন্ত চলাকালে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করা হয় এবং তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। এমনকি সানজিদা ইসলাম জেসমিন প্রকাশ্যে প্রভাব খাটিয়ে তদন্ত নিজের পক্ষে আনার কথাও বলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে তাকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে পদায়ন করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে বাবা-মেয়ে দুজনই বেপরোয়া আচরণ করছেন। তাদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে অশালীন ভাষায় গালাগালি, হুমকি এবং মিথ্যা মামলার ভয় দেখানো হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
মন্তব্য করুন