
কালিয়াকৈর উপজেলার বড়ইছুটি এলাকায় রবিবার সকাল দশটার দিকে একটি মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় ছয় বছরের শিশু সুমনা আক্তার নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বাড়ইপাড়া থেকে জালশুকা আঞ্চলিক সড়ক সংলগ্ন এলাকায়, যেখানে শিশুটি অটোরিকশার চাকায় পিষ্ট হয়ে যায়।
নিহত সুমনা আক্তার গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানা, নাকাইহাট গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে। পরিবারটি বর্তমানে বরইছুটি, কালিয়াকৈর এলাকায় শরিফুল ইসলামের বাড়িতে ভাড়া থেকে কাজ করছিল। স্থানীয়রা জানান, সুমনা সকালে রাস্তা পার হওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি অটোরিকশার চাকায় পিষ্ট হয়ে যায়।
কালিয়াকৈর থানার উপ-পরিদর্শক এস আই রেজাউল করিম সাংবাদিকদের জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। পাশাপাশি, নিহত শিশুর পরিবারের সাথে কথা বলে প্রাথমিক আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান।
স্থানীয়রা মর্মাহত এবং অভিযোগ করেছেন, সড়কে যানজট ও অতি দ্রুত অটোরিকশা চলাচলের কারণে নিয়মিতভাবে ছোট শিশুদের জন্য বিপদ সৃষ্টি হচ্ছে। তারা দাবি করেছেন, পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শিশুটি খুবই সজাগ ও খেলাধুলা করতে ভালোবাসত, এবং তার আকস্মিক মৃত্যু এলাকায় শোকের ছায়া ফেলে। স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রশাসন এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সড়ক নিরাপত্তা ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।
কালিয়াকৈর থানার কর্মকর্তা বলেন, “এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই এবং তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দুর্ঘটনাটি স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তাকে আরও গুরুত্ব দিয়েছে। বিশেষত শিশুদের নিরাপত্তার জন্য যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, পথচারী অঞ্চল চিহ্নিতকরণ এবং স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতা অপরিহার্য বলে মনে করা হচ্ছে।
এই ঘটনার মাধ্যমে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা ও সচেতনতার বিষয়ে সতর্কবার্তা পৌঁছে গেছে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন